শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র-গুলিসহ দুই ‘স্যুটার’ আটক

মণিরামপুরে চরমপন্থী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই খুন হয় রানা প্রতাপ 

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২১, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মণিরামপুরে চরমপন্থী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই খুন হয় রানা প্রতাপ 

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুটি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই হত্যার শিকার হন বরফকল ব্যবসায়ী ও চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৫)। 

পুলিশ সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য রাজিব, হৃদয়, শামীম ও সেলিমের বিপরীতে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন কেশবপুর উপজেলার বাইসা গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী। 

রানা প্রতাপ নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ঘের দখল, জমি দখল ও বাড়ি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন।এ বিষয়টি জানতে পেরে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্না তাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারে ঝুমুর বিউটি পার্লারের পাশে অবস্থান করছিলেন রানা প্রতাপ। এ সময় শামীম ও সেলিম তার অবস্থান নিশ্চিত করলে হৃদয়, রাজিব ও সূর্য্য পালসার মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা রানা প্রতাপকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথা ও বুকে একাধিক গুলি লাগার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় চাকুর আঘাত করে তারা পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের দুই শুটার আটকের পরে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার। 

পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৯ রেফব্রুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডের দুই শুটার ও নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য মাহমুদ হাসান হৃদয় ও শামীম হোসেন বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও চাকুসহ আটক করা হয়েছে। আটক দুই জনই অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লা নামে একজনকে আটক করা হয়এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পরেই সাদ্দাম হোসেন নামে একটি চরমপন্থী সংগঠনের সদসকে আটক করা হয়। 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দুটি চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। মামলার তদন্ত করছেন যশোর ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। এ মামলায় হৃদয়, রাজিব, সেলিম ও শামীম আটক রয়েছে। পলাতক সূর্যসহ আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: