বুধবার ১০ জুন ২০২৬

২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন মাসেও গঠিত হয়নি কমিশন, কার্যত স্থবির দুদক

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৯ জুন ২০২৬

তিন মাসেও গঠিত হয়নি কমিশন, কার্যত স্থবির দুদক

কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৩ মার্চ সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন। এরপর তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নতুন কমিশন গঠিত হয়নি। ফলে সংস্থাটির নীতিগত ও আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

দুদক আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান শুরু করা, তদন্ত অনুমোদন, মামলা দায়ের, চার্জশিট দাখিল, সম্পদ জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা—সব সিদ্ধান্ত কমিশনের মাধ্যমে নিতে হয়। কমিশন না থাকায় তিন মাস ধরে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি নতুন অভিযোগ জমা পড়ছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের ফাইল চেয়ারম্যানের দপ্তরে স্তূপ হয়ে আছে।

কমিশন না থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাচ্ছে না। সম্পদও ফ্রিজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সুযোগে অপরাধীরা দুর্নীতির আলামত নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, নাগরিক অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য এবং হটলাইন ১০৬-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু এই অভিযান পরিচালনায়ও কমিশনের অনুমোদন লাগে। ফলে এই ইউনিটের কার্যক্রমও এখন বন্ধ।

কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন অনুসন্ধান বা মামলা শুরু করা না গেলেও পুরোনো মামলার তদন্ত ও চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। অনেক কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন আগেভাগে তৈরি করে রাখছেন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৪ মে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল হক মৃদুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাছাই কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক মনোনয়ন প্রদান। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আসান ফরিদ গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেছেন। তাদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।’

আইন অনুযায়ী, বাছাই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির পাশাপাশি থাকবেন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী, কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারককে মনোনয়ন দেবেন। আপিল বিভাগের মনোনীত বিচারক বাছাই কমিটির সভাপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারক বাছাই কমিটির সদস্য হবেন।

এই কমিটি যোগ্য ছয়জন প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে এবং একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: