শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা

প্রতিনিধি, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

প্রকাশিত: ১৫:২১, ১ অক্টোবর ২০২৬

ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি বাজারে পাটের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নে এবার ১৫০ হেক্টর জমিতে দেশি তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১১ দশমিক ৯ বেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫০ হেক্টর জমি থেকে মোট ১ হাজার ৭৮৫ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর ১২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সে বছর হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল ১০ দশমিক ৬ বেল।

এদিকে কৃষকেরা পাট কাটা, পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে অনেকে পাট বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।

উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, “গত বছর প্রতি মণ পাট দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এ বছর ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে পাট বিক্রি করেছি।”

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে পাট কেটে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও কৃষকেরা পানিতে পাটের আঁটি জাগ দিচ্ছেন। আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর প্রস্তুতি চলছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে খরচ তুলনামূলক বেশি। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ায় সেই খরচ পুষিয়ে লাভের আশা করছেন তাঁরা।

এক পাটচাষি বলেন, “এবার জমিতে পাট বেশ ভালো হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও আঁশের মানও ভালো। ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। এখন বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে পাট চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।”

আরেক কৃষক বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে শ্রমিক খরচ অনেক। তারপরও এবার ফলন ভালো হওয়ায় আশা করছি, খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ থাকবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। ফলে অনেক এলাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের পাট কাটার সঠিক সময়, জাগ দেওয়ার পদ্ধতি এবং আঁশের মান ভালো রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষকেরা জানান, পাটের ভালো ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীল ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা করা গেলে ঘোড়াঘাটে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: