রোববার ২২ মার্চ ২০২৬

৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষি-পরিবেশ থেকে আরও খবর

আগামী এক বছরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে

আগামী এক বছরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, আগামী এক বছরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের বৃহৎ সংখ্যক জনগোষ্ঠী এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষিখাতকে ঢেলে সাজানো হবে। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষিকে প্রাধান্য দিতে হবে। মন্ত্রী আগামী এক বছরে কৃষি পণ্যের আমদানি কমিয়ে আনার পাশাপাশি কৃষি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে মন্ত্রী সবার সহযোগিতা কামনা করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, কৃষি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। এ সেক্টরের সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে নব নিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

রাজশাহীতে বোরো রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা

রাজশাহীতে বোরো রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা

রাজশাহী জেলার উপজেলাগুলোতে এখন চলছে বোরো রোপণের ধুম। ভোরের কুয়াশা মোড়ানো হালকা শীতকে উপেক্ষা করে লাঙল, জোয়াল আর আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। বরেন্দ্রের দিগন্তজোড়া মাঠ এখন কচি ধানের সবুজ চারা রোপণের উৎসবে মাতোয়ারা। কৃষকদের এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর মাটির গন্ধ মাখা স্বপ্নই বলে দিচ্ছে, এবারও রাজশাহীর গোলায় উঠতে যাচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ সোনালি ধান। চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজ তোলা এবং রোপণ করার কাজ। আর এই জমি থেকে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ৯টি উপজেলা তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে বোরো রোপণ। তখন কনকনে হাড় কাপানো শীত উপেক্ষা করেই শুরু হয় বোরো রোপণের কার্যক্রম। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর। কৃষকদের চোখেমুখে আগামীর স্বপ্ন। পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চাষবাস করি। এবার শীতটা একটু বেশি ছিল, তাই বীজতলা তৈরি করতে ভয় লাগছিল। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করেছি। এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে, আশা করছি ফলন ভালো হবে। তবে শুধু আশার কথা নয়, খরচের দুশ্চিন্তাও ভর করেছে অনেক কৃষকের মনে। তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, সবকিছুর দাম বাড়ছে। ডিজেলের দাম আর সারের দাম বাড়ার কারণে এবার চাষের খরচ একটু বেশি পড়বে। আমরা যারা বর্গাচাষী, তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে, তবেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

শীর্ষ সংবাদ: