বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ ২০২৬

১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে

মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

সুব্রত কুমার, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)

প্রকাশিত: ১৮:৪২, ৪ মার্চ ২০২৬

মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে অনেক কৃ ষক চাষটি করে থাকেন এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে বছর উপজেলায় মাত্র . বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড টমেটোর চাষ হয়েছে তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: