যশোর শহরের রাস্তা-ফুটপাত রাঙাচ্ছে যেন রঙ-বেরঙের কুল-বরই। পাকা টসটসে গোল-গোল বরইয়ের রঙ- গাঢ় হলুদ কোনো কোনোটির। সিঁদুরের মতো লাল আভাও ছড়াচ্ছে ঝুড়িভর্তি ফলটির অন্য আরেকটি জাত। ক্ষুদ্রাকৃতির, মাঝারি ও বড়ো বড়ো সাইজের আকর্ষণীয় সব কুল-বরইয়ে ভরপুর এখন যশোর শহর। ঝুড়ি ভরা বিষম-টক, খাট্টামিঠা ও সুমিষ্ট কুল-বরই’র পসরা ঘিরে চলছে জম্পেশ বেচা-বিক্রিও। ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি দর হাঁকছেন মৌসুমি এই ফলটির বিক্রেতারা।
শহরের চৌরাস্তা, বড়ো বাজার ও দড়াটানায় রাস্তা-ফুটপাত জুড়ে বসছে কুল বিক্রির পসরা। ঝুড়িভর্তি রাশি রাশি রঙ-বেরঙের রকমারি কুল-বরইয়ের সমাহার দৃষ্টি কাড়ছে সবার। টক পছন্দ করেন এমন মানুষেরা জিভে জল আনা- হলুদ রঙের ও পেকে লালচে বর্ণ ধারণ করা কুল কিনে প্যাকেট ভর্তি করে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
চৌরাস্তা মোড় থেকে টক কুল কিনছিলেন সিনথিয়া জামান নামে এক গৃহবধূ। আলাপচারিতায় তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এক সময় বাড়ি বাড়ি কুল ও বরই গাছ ছিল। কিন্তু শহর সম্প্রসারণের মুখে দালানকোঠা তৈরির সময় এসব গাছ কেটে ফেলায় হাত বাড়ালেই ফলটি আর পাওয়া যায় না। তবে মৌসুমে এই ফলটি এখনো শহরের রাস্তাঘাটে সচরাচর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, টক বরই ঝাল লবণ দিয়ে খেতে খুব ভালোলাগে। ঝাল-লবন দিয়ে মাখিয়ে খেতেও দারুণ। ছেলের ও নিজের জন্য ১২০ টাকা দিয়ে তাই এক কেজি কুল কিনলাম।
সরেজমিন ঘুরে ক্রেতাদের ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একেকজনের একেক ধরনের কুল-বরই পছন্দ। কেউ কেউ টক-কুল ভালোবাসেন। আবার কারো কারোর পছন্দ খাট্টামিঠা ও আবার কারোর পছন্দ সুমিষ্ট কুল। বিক্রেতারা তাই সবার পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে রকমারি রঙ ও স্বাদের কুল-বরইয়ের পসরা সাজিয়েছেন।
বিক্রেতারা জানান, বাউ কুল, আপেল কুল, নারকেল কুল, বল সুন্দরী, টক কুল, টক মিষ্টি কুল এবং কাশ্মীরি কুল রয়েছে তাদের সংগ্রহে। বাউকুল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। দেশি প্রজাতির টক-মিষ্টি কুলেরও চাহিদা অনেক। এগুলোর দরও আকৃতিভেদে ১২০ টাকা পর্যন্ত।
চৌরাস্তা মোড়ে ফুটপাতে বসে বিভিন্ন প্রজাতির কুল-বরই বিক্রি করেন নাসিমা খাতুন নামে এক নারী। তিনি জানান, গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুল কিনে এনে এখানে বসে বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকালে সদরের বসুন্দিয়া থেকে বস্তাভর্তি করে টক-মিষ্টি বিভিন্ন স্বাদের কুল এনে বিক্রি করেন। এভাবে কুল বিক্রি করে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ করেন। তিনি জানান, নারী ও শিশুরা এসে টক কুলের খোঁজ করে। অনেকে আবার মিষ্টি কুল কিনতে চান। সবমিলিয়ে কুলের চাহিদা বেশ ভালো।
দড়াটানার ফল বাজারের বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ফলের পাশাপাশি কুল ও বরইয়ের চাহিদা এখন অনেক। ইফতারে অনেকে কুল খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ মিষ্টি স্বাদের কুল ইফতারির জন্য কিনছেন অনেকে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোরে ৪৯৮ হেক্টর জমিতে এই মৌসুমে কুলের ভালো ফলন হয়েছে।
/আলি

























