বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়: গয়েশ্বর

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়: গয়েশ্বর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। সেখানে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংস্কার, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে নিজ কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় না; যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের অধীনেই হয়। সে ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করলে সরকার হস্তক্ষেপ না করলেও সরকারের ওপর নানা রকমের দোষ চাপানোর একটি সুযোগ থাকে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনব্যবস্থায় বিএনপি কী ধরনের সংস্কার চায়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে আছি, আমি তো সরকারে নেই। আমাদের দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। আলোচনা হলে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিএনপির শরিক দলগুলো একসঙ্গে থাকবে কি না—এ প্রশ্নে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিএনপি জোটগতভাবে জাতীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেনি, যুগপৎভাবে অংশগ্রহণ করেছে। যাদের অন্য দলের আদর্শ আছে তাদেরকে আমাদের প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনা ছিল—জাতীয় নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিতে হলে অন্য কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সেটি বিলুপ্ত বা ত্যাগ করে আসতে হবে।’

সামনে ঢাকাসহ কয়েকটি বড় সিটি করপোরেশন নির্বাচন রয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন হতে পারে বলে আপনি মনে করেন—এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, এই প্রশ্নটা আমাকে না করে সচিবালয়ে গিয়ে করুন, আমার চেয়ে ভালো উত্তর পাবেন। আমি শুধু এটুকু বলব—জাতীয় নির্বাচন যে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীনে হয়েছে, সিটি ও স্থানীয় নির্বাচনও তাদের অধীনেই হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকবলের ঘাটতি হলে সেগুলো পূরণ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া।

যারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে দলের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কনভেনশন এবং কনস্টিটিউশন। জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে ক্যাম্পেইন করার সুযোগ নেই। এটা নিয়মেই নেই আগে থেকেই। এটাই বড় ব্যাপার।’

নারী ও তরুণদের নির্বাচনে আগ্রহী করতে বিএনপির কোনো পরিকল্পনা আছে কি—প্রতিবেদকের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে। ‘সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে হলে একটু অপেক্ষা করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং তরুণদের নির্বাচনে আগ্রহী করতে বিএনপির পরিকল্পনা অবশ্যই আছে।’

মেয়াদপূর্তির আগেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে দেশ নতুন রাষ্ট্রপতি কত দিনের মধ্যে পেতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে নতুন সংসদ সদস্য বলেন, ‘নিশ্চয়ই হবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। অবশ্যই সরকার কনস্টিটিউশন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবে। এই যে রাষ্ট্রপতি আছেন, সংসদ বাতিল হয়ে গেছে—ওই সংসদ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। যেহেতু সংসদভিত্তিক নির্বাচিত হয়েছেন, বিতর্ক যতই থাকুক সে কারণেই কিন্তু তাকে সরানো যায়নি কিংবা দ্বিমত ছিল। সুতরাং রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে এক ধরনের বিষয়, আর যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন—পার্লামেন্ট যদি মনে করে তাকে রাখা নিরাপদ নয়, সেটা আরেক ধরনের বিষয়।’

জুলাই সনদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিষয় ছিল—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে সিদ্ধান্তগুলো ছিল, সাত মাস আলোচনার মধ্য দিয়ে সংস্কারের গান শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা শুনতাম—যে সকল বিষয়ে সব দল একমত হবে, সেই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হবে। সংস্কার কমিশন বেসিক জিনিসগুলো এড়িয়ে কিছু বিষয় ঘোষণা করেছে। যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেসব বিষয়গুলো কনসিডারেশনে নিতে পারে পার্লামেন্ট। আর যে বিষয়গুলোতে সব দল একমত, সেগুলো সহজেই পাস করতে পারবে এবং নোট অব ডিসেন্ট থাকলে অন্য কেউ আপত্তিও করতে পারবে। সিদ্ধান্ত নেবে পার্লামেন্ট।’

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: