কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সরকারি ভর্তুকি সরাসরি পৌঁছে দিতে সরকার কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমিয়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে সরকারি সুবিধা সরাসরি পৌঁছানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও নির্দেশ দেন, কৃষক কার্ড দ্রুততম সময়ে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে এবং দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো। এটি শুধু একটি শারীরিক কার্ড নয়; ভার্চুয়াল বা মোবাইল অ্যাপভিত্তিকভাবে কৃষকের তথ্য, জমির আকার, ফসলের ধরন, ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টসহ সব সুবিধা সংযুক্ত থাকবে।
মন্ত্রী আরও জানান, কার্ড পেলে কৃষক পাবেন সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি বিষয়ে তথ্য। এতে কৃষক সহজে উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং প্রণোদনা, ভর্তুকি ও দুর্যোগকালীন সহায়তা সরাসরি পাবেন। কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ বন্ধ করা হবে, যাতে প্রকৃত চাষির হাতে সুবিধা পৌঁছায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন প্রমুখ।
সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পার্টনার’ (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স) প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হলেও নতুন সরকার দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সংস্থা কার্ড বিতরণ এবং ডেটাবেজ তৈরি করবে। দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষক পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু এলাকায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে, পরে ধাপে ধাপে সব কৃষকের জন্য তা কার্যকর করা হবে।


























