বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাস্তবতার জ্ঞানে ‘কৃষি-খাদ্য-মৎস্য’ পরিচালনা করবেন নতুন মন্ত্রী

রানার প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:৩৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাস্তবতার জ্ঞানে ‘কৃষি-খাদ্য-মৎস্য’ পরিচালনা করবেন নতুন মন্ত্রী

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন। কিনেছিলেন মনোনয়নপত্র যা যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হয়েছিলো। কর্মী-সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা আর দলের প্রতি আনুগত্যে শেষমেষ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

শুধুমাত্র কাগজে-কলমে প্রত্যাহার করেই ক্ষ্যান্ত হননি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সব সংসদীয় আসনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকালে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফলে তাঁর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এছাড়া কুমিল্লা-৯ আসনে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বন্দ্ব নিরসনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

যারই পুরস্কারস্বরূপ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন। দায়িত্ব দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ  তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াকে দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক শ্রম ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এতে কুমিল্লাজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দক্ষিণ কুমিল্লার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন। ফলে কৃষক, খামারি ও জেলেদের বাস্তব সমস্যার বিষয়ে তাঁর যথেষ্ঠ ধারণা রয়েছে।  

মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সাথে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের প্রিয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে কাজ করার বিশাল সুযোগ পেয়েছি। কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য খাতে নতুন গতি আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষককে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ তিনটি মন্ত্রণালয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক চ্যালেঞ্জও আছে।  আশা করি সততা ও আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে খাদ্য, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণি সম্পদে বাংলাদেশে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করতে পারবো। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর কথা বলেছেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া আমিন-উর-রশিদের শৈশব ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। নগরের মনোহরপুর (নিমতলী) এলাকার ভোটার হলেও তার পৈতৃক বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে। বাবা প্রয়াত হাজী আলী মিয়া ও মা আমেনা বেগম। পেশায় ব্যবসায়ী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। 

এরআগে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনীত হন। ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মনোনীত হন। ২০২২ সালের ৩০ মে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন তিনি।

মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও জয় পাননি, তবে গত ১৭ বছর ক্ষমতাসীনদের দমন-নীপীড়নের মধ্যেও তাঁর দলীয় রাজনীতির অবস্থান অটুট ছিলো।  


 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: