রোববার ১২ জুলাই ২০২৬

২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা অঞ্চলে পাট চাষে ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা, বাম্পার ফলনের আশা

ভালো দামে ফিরছে ‘সোনালি আঁশের’ সুদিন

সংবাদদাতা, খুলনা

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ১২ জুলাই ২০২৬

ভালো দামে ফিরছে ‘সোনালি আঁশের’ সুদিন

একসময় দেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত ছিল ‘সোনালি আঁশ’ পাট। নানা প্রতিকূলতায় কয়েক দশক ধরে পাটের আবাদ কমে গেলেও বর্তমানে আবারও সেই হারানো সম্ভাবনা ফিরে আসছে। ভালো ফলন, লাভজনক বাজারমূল্য, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং সরকারি সহায়তার কারণে খুলনা অঞ্চলে নতুন করে পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হওয়ায় কৃষি বিভাগও আশাবাদী।


নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে পাটগাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তোষা, দেশি ও মেস্তা জাতের পাটের জন্য ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি।
এই প্রবণতা শুধু কৃষকদের আস্থার প্রতিফলন নয়, বরং পাট খাতের পুনরুজ্জীবনেরও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পাটের ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৪৪ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি হতে পারে।
খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও বৃদ্ধি দুটোই ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তারা।
চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শুরু হবে। এরপর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ শুরু হবে।
তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী বলেন, ‘গত বছর প্রতি মণ পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবারও যদি একই ধরনের দাম পাই, তাহলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’
ফুলতলা উপজেলার কৃষক মাহতাব হোসেন, শাহেদ মাহমুদ, আবদুল আউয়াল ও অপূর্ব কুমার রায় জানান, মাঠের পাটের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে। তারা চলতি মাসের শেষভাগ থেকেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানির সংকট দেখা দিলে আঁশের মান বজায় রাখতে রিবন রেটিংসহ আধুনিক আঁশ আহরণ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কম পানি দিয়েই উন্নতমানের পাটের আঁশ উৎপাদন সম্ভব।
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: