- এক অফিসেই টানা ২১ বছর
- ঘুষের বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি যাচ্ছে ব্যক্তি মালিকানায়
- নামজারি, ভিপি সম্পত্তি ইজারা চলে ইচ্ছামাফিক
উপমহাদেশে প্রচলিত জমিদার প্রথা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত শোষণ ও নিপীড়ন মূলক ছিল। একপর্যায়ে বাংলার সাধারণ কৃষকদের আন্দোলনের ফলে ১৯৫০ সালে প্রথাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়।
তবে সেকালের জমিদারদের মতোই যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে টানা প্রায় দুই যুগ ধরে জমিদার রূপে আবির্ভূত হয়েছেন নজরুল ইসলাম নামের একজন ভূমি কর্মকর্তা।
আজ থেকে ২১ বছর আগে, ২০০৫ সালের ৪ আগস্ট কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন নজরুল ইসলাম। বর্তমানেও তিনি ওই অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাঝে চব্বিশের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীদের আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয়ে নিজেই সাতবাড়িয়া থেকে বদলির তদবির শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। যদিও কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে তিনি পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে আসতে তোড়জোড় শুরু করেন। এমনকি মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে পোস্টিং নিয়ে কেশবপুরে ফেরেন। তবে, ওই সময় সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসে দায়িত্বরত আবু সাঈদ নামের ভূমি কর্মকর্তার চাকরিজীবন শেষপ্রান্তে থাকায় তাকে বদলি করে পদ শূন্য করার সুযোগ না পেয়ে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন সাগরদাঁড়ি ভূমি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট যোগদান করেন। তবে ৩ মাসের ব্যবধানেই সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসার অবসর উত্তরকালীন ছুটিতে গেলে পদশূন্য হওয়া মাত্রই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ‘কাঙ্ক্ষিত’ সেই পদ বাগিয়ে নেন ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
ঘুষের বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি যাচ্ছে ব্যক্তি মালিকানায় :
সরকারের রাজস্ব প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তহশিলদার বা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা। জনগণকে ভূমি সেবা প্রদানের পাশাপাশি খাস জমি-সরকারি সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষা করা, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও অর্পিত সম্পত্তির একসনা ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় তাদের সরকারি দায়িত্ব হলেও ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ‘রক্ষক হয়ে ভক্ষকের’ ভূমিকায় রয়েছেন। এমনকি সরকারি গেজেটভুক্ত ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে তিনি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উপজেলার সাতবাড়িয়া মৌজার আরএস ২১৪১ দাগের ৪১ শতাংশ ডাঙা শ্রেণির জমিটি এসএ রেকর্ডে ১৪৯১ ও ১৪৯২ দাগে সূচিত ছিলো। তবে উল্লিখিত এসএ দাগের জমিটি সরকারি গেজেটে সাতবাড়িয়া মৌজার ‘ক’ তালিকায় ১৪০ নম্বর ক্রমিকে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সেখানে মূল মালিক হিসেবে কুমুদ বন্ধু, পিতা: হেমন্ত, বর্তমান ঠিকানা: ভারত উল্লেখ করা রয়েছে। জানা যায়, জমিটি দীর্ঘদিন ডিসিআর-এর আওতায় ছিল। ডিসিআর মামলা নং: ৯১ কেবি/৮৬, তারিখ ৬ ডিসেম্বর ১৯৮৬ অনুযায়ী, সাতবাড়িয়া গ্রামের ইয়াকুব আলী জমিটি ইজারা নিয়ে ভোগদখল করতেন। এছাড়াও ওই দাগের জমি নিয়ে নামজারির আগেই দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান ছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে- গেজেটে ‘ক’ তালিকাভুক্ত জমিটির মালিকানা পেতে নামজারির আবেদন করেন সাতবাড়িয়া গ্রামের নওশের আলী। উপজেলা সহকারী কমিশনার আবেদনের প্রতিবেদন চেয়ে সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসার নজরুল ইসলামকে নির্দেশনা দেন। এরমধ্যেই, আবেদনকারী নওশের আলী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে মোটা অংকের ‘রফাদফা’ করেন। কিন্তু একই জমির মালিকানা দাবি করা ইয়াকুব আলী বিষয়টি আঁচ করতে পেরে একাধিকবার ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে গিয়ে জানান- ওই জমি নিয়ে নেওয়ানী আদালতে মামলা চলমান আছে। একইসাথে তিনি মামলার ইনফরমেশন স্লিপ দিয়ে নামজারি না করার অনুরোধ জানান। তারপরও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) চাওয়া প্রতিবেদনে ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম চার মাসের ব্যবধানে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী দুইটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রথম প্রতিবেদনে জমিটিকে অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ আওতাভুক্ত উল্লেখ করে কিছুটা ‘টেকনিক্যাল’ ভাষায় রিপোর্ট পেশ করে অবমুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান, তবে চার মাস পর একই নামজারি মামলায় তিনি আরেকটা প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ওই প্রতিবেদনে তিনি জমিটিকে সরকারি গেজেটের ‘খ’ তালিকাভুক্ত জানিয়ে নামজারির পক্ষে সুপারিশ করেন। এরপরই সরকারি নামে থাকা সরকারি ওই সম্পত্তির নামজারি সূত্রে মালিক হন সাতবাড়িয়া গ্রামের নওশের আলী গং। যার নামজারি খতিয়ান সূচিত হয় : ১৩৭৯।
অভিযোগ আছে- শুধু এই একটি ‘ক’ তালিকাভুক্ত জমি ছাড়াও অহরহ এমন সরকারি স্বার্থ তিনি ঘুষের বিনিময়ে বিকিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক সরকারি সম্পত্তি পেতে ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারের সাথে আইনি লড়াই চলছে। তবে অভিযোগ আছে, ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঘুষ নিয়ে তিনি সরকারি স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি আদালতে সরকারের পক্ষে সাক্ষী দিতে গিয়ে ‘বিশেষ কারণে’ নীরবতা পালন করেন।
আইনজ্ঞদের মতে, ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তির গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ওই বছরই অর্পিত সম্পত্তির মামলা ও নিষ্পত্তির জন্য প্রত্যেক জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেটে ‘ক’ তালিকাভুক্ত কোনো জমির মামলা ট্রাইব্যুনাল ব্যতিত অন্য কোনো আদালতে করা যাবে না। ফলে, ট্রাইবুনালের রায়ে কোনো ব্যক্তি মালিকানা প্রাপ্ত হওয়ার পরেও নামজারির আবেদন করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার তা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকারি স্বার্থ কেন্দ্রিক স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে মতামত চেয়ে পাঠান। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিয়ে এ ধরনের বিষয় নিষ্পত্তি হয়। অথচ, একজন ইউনিয়ন ভূমি অফিসার গেজেটের ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্তির সুপারিশ করে গুরুতর অন্যায় করেছেন। এছাড়াও কোন সাধারণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকলেও ভূমি তহশিলদার সেই জমির নামজারির পক্ষে সুপারিশ করতে পারেন না, এক্ষেত্রে সে আইনেরও ব্যত্যয় ঘটেছে। যা সরকারি চাকরি বিধিমালার সম্পূর্ণ বিরোধী এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
নামজারি সেবায় ঘুষ বাণিজ্য : সরকারিভাবে ভূমি সেবা সহজতর করতে এবং ভোগান্তি কমাতে নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। দালাল ব্যাতিত নামজারির আবেদনসহ সব কাজ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসের আওতাভুক্ত দুইটি ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের মানুষ পদে-পদে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যেও শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ ২১ বছর একই এলাকায় কর্মরত থাকায় তিন প্রজন্মের মানুষকে চেনেন-জানেন। ফলে কার জমিতে কি ধরনের ত্রুটি আছে কিংবা কোন ব্যক্তির শত্রুতা কার সাথে সেটাও জানেন। এই সুযোগে ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জমির ত্রুটি খুঁজে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। দাবীকৃত ঘুষ না পেলে ওই ব্যক্তির শত্রুপক্ষকে ডেকে এনে বিভিন্ন আইনি পরামর্শ দিয়ে লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ আদায় করেন।
এলাকার অধিকাংশ সাধারণ মানুষ নামজারির জন্য ভূমি কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি লোক বুঝে এবং জমির পরিমাণ বুঝে ইচ্ছামাফিক ঘুষের রেট নির্ধারণ করে অগ্রিম টাকা নেন। এলাকবার সচেতন মানুষেরা দালাল ব্যাতিত সরাসরি কম্পিউটারের দোকান থেকে নামজারির আবেদন করলেও সহকারী কমিশনার যখন তদন্ত চেয়ে নজরুল ইসলামের কাছে পাঠান, তখনই তেল খরচসহ নানা অযুহাতে কমপক্ষে ১০০০-১৫০০ টাকা আদায় করেন। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্যামলী খাতুন নামজারির জন্য একটি আবেদন করেন। যার নং: ১১৬৫৫। কেশবপুর সহকারী ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে পরিচয় গোপন রেখে তার সাথে কথা বলেন এ প্রতিবেদক। তিনি জানান, বাবার বাড়ির সম্পত্তির নামজারি করতে নজরুল ইসলাম ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে বিগত সপ্তাহে অসংখ্য ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে এ প্রতিবেদক, যার মধ্যে অনেকেই জানান, ১০-১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও নজরুল ইসলাম কাজ না করে দিয়ে ঘুরাচ্ছেন।
খাস জমির বন্দোবস্ত ও অর্পিত সম্পত্তির একসনা ইজারায় ঘুষ বাণিজ্য :
বিগত কয়েক বছর আগে সরকার ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দিচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক ভূমিহীনরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন নজরুল ইসলামের কাছে। এসব মানুষের মধ্যে অনেকেই গরিব-অসহায়। যদিও তাদেরকে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন নজরুল ইসলাম। অনেকেই শখের ছাগল-গরু বিক্রি করে নজরুল ইসলামকে ঘুষ দিয়েছেন। এর মাঝে কেউ কেউ জমি পেয়ে মুখ বন্ধ রেখেছেন, আর না পেয়ে অনেকেই টাকা ফেরত পেতে দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন। বিগত সাড়ে ৩ বছর আগে মির্জানগর গ্রামের শেখ শওকত আলীর মেয়ে ভূমিহীন রোমেছা বেগম কে সাতবাড়িয়া মৌজায় সাত শতক জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে একলাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তবে একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ মেনে নিয়ে তিন দফায় সমুদয় টাকা গ্রহণ করেন। রোমেছা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই পেতে উনার (নজরুল ইসলাম) অফিসে গিয়ে দুইবার টাকা দেয় আর উনার মণিরামপুরের গ্রামে বাড়ি গিয়েও একবার ১০ হাজার টাকা দিয়ে এসেছি। আমার টাকাও নেই, জমিও নেই’। শুনেছি, সেই খাস জমি যাদের দখলে ছিলো তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে নায়েব তাদেরকেই দিয়ে দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তদন্তে যায় নজরুল ইসলামের কাছে, এতেও তিনি (নজরুল ইসলাম) সহযোগিতা করেননি। ভালুকঘর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, দত্তনগর মৌজায় ৪৫ শতক অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) লিজ পেতে আবেদন করেছিলাম। ওই তদন্ত আসে নজরুল ইসলামে কাছে। তিনি পক্ষে রিপোর্ট দেবেন জানিয়ে ২৫ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন, যা অনুরোধ করে তিনি ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেন। কথামতো লীজও দেওয়া হয় মিজানুর রহমান। তবে ওই জমির দখলে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে নজরুল ইসলাম দুই পক্ষে খেলে আমাদের ক্ষতি করেছেন।
লাল ফ্ল্যাগ বাণিজ্য:
২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তির গেজেট প্রকাশ হলে ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ‘ঘুষ বাণিজ্যের’ নতুন প্লট তৈরি করেন। সেই থেকেই গেজেটের ‘ক’ ও ‘খ’ তালিকার সম্পত্তি অবমুক্তির রিপোর্ট দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। এরপর তিনি নেমে পড়েন ‘লাল ফ্ল্যাগ’ বাণিজ্যে। যে কোন এলাকায় অর্পিত সম্পত্তি বা সরকারি খাস সম্পত্তি ওই এলাকার কোন না কোন ব্যক্তির দখলে আছে। এগুলো টার্গেট করে তিনি বহিরাগত আমিন নিয়ে এলাকায় গিয়ে ফিতা ধরে মাপজোফ করে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দখলমুক্ত করতে সরকারের পক্ষে লাল ফ্ল্যাগ টাঙিয়ে দেন। এতে কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন ওই জমির ভোগ-দখলকারী। ফলে পরদিনই নজরুল ইসলামে সাথে পারসোনাল যোগাযোগ করলে শুরু হয় ঘুষের দরকষাকষি। এভাবে ঘুষ আদায় করে তিনি নিশ্চুম থাকেন। আর দখলকারীকে জানিয়ে দেয়, ‘আমি ওদিকে যাবো না, যা ইচ্ছা করো। এই ফর্মুলায় নজরুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি খাস ও অর্পিত সম্পত্তির জমির উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ, গাছ কেটে বিক্রিসহ নানা ধরণের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি মির্জানগর নতুন বাজারের পাশে এক ব্যক্তি সরকারি জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছন। এলাকায় চাউর হয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ওই ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ‘চুপ’ ছিলেন, ফলে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি। এছাড়াও মির্জানগর গ্রামের সবুজ নামের এক ব্যক্তিকে খাস জমি দেওয়ার নামে ২০ হাজার টাকা, মিজান নামের একজন প্রতিবন্ধীকে খাস জমি দেওয়ার নামে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায় নিয়েও কাজ কওে দেননি বলেও এলাকায় প্রচার রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি খাস জমি দখল করিয়ে ঘুষ নেওয়ার একটি ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নামজারি, খাস ও অর্পিত সম্পত্তি, আদালতে প্রতিবেদন, লাল পতাকা টানিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি, খাজনা ও বিভিন্ন ভূমিসেবায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। সেবাপ্রার্থীদের আবেদন নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। সরকারি সম্পত্তি চিহ্নিত করে সরকারের দখলে রাখতে লাল পতাকা টানানো হয়েছিল। ভয়ভীতি সৃষ্টি বা আপস-রফার উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি।’
‘ক’ তালিকাভুক্ত সরকারি জমিকে প্রথম প্রতিবেদনে ‘ক’ তালিকাভুক্ত উল্লেখ করে পরে ‘খ’ তালিকাভুক্ত দেখিয়ে নামজারির সুপারিশ এবং এ জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, ‘জমিটি ‘ক’ ও ‘খ’-উভয় তালিকায় থাকায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নামজারি বাতিল করা হবে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে যদি ‘ক’ তফশিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির নামজারির প্রতিবেদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা বাতিল করা হবে। তিনি বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























