হাজার মাইলের দূরত্ব, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি। তবু ভালোবাসা মানেনি কোনো বাধা। সুদূর চীন থেকে প্রেমের টানে যশোরে ছুটে এসেছেন ৪১ বছরের যুবক লি বিং। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জীবনসঙ্গী করেছেন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের তন্দ্রা খাতুনকে।
তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার একটি তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত। তার ভাষ্য, প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমেই লি বিংয়ের সঙ্গে পরিচয়। এরপর ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত কথা। কথায় কথায় গড়ে ওঠে বিশ্বাস, বিশ্বাস থেকে সম্পর্ক।
দুই পরিবারের সম্মতির পর সিদ্ধান্ত হয় বিয়ের। লি বিং গত ১৮ জুন বাংলাদেশে পা রাখেন। পরদিনই ১৯ জুন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামী রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগেই স্বেচ্ছায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নতুন নাম হয় মো. তাওহিদ।
তন্দ্রা বলেন, ‘সে আমার টানেই চীন থেকে এসেছে। বিয়ের পর দুই দিন হোটেলে ছিলাম। এখন সে আমাদের বাড়িতেই আছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হলে আমি তার সঙ্গে চীন চলে যাবো।’
চীনের বেইজিংয়ের বাসিন্দা তাওহিদ একটি স্মার্ট লক কোম্পানিতে চাকরি করেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
নতুন দেশ, নতুন পরিবার নিয়ে তার অনুভূতি সহজ, সরল। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুব ভালো। বাংলাদেশের বাতাস খুব ভালো। স্ত্রীর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন খুবই আন্তরিক ও দয়ালু। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি বাংলাদেশকে খুব পছন্দ করছি। বিয়ের পর আমি খুবই আনন্দিত।’
এদিকে, বিয়ের খবর ছড়াতেই তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ। প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো চীনের কোনো ছেলে এসে বিয়ে করেছে বলে শুনিনি। বিষয়টি খুবই ব্যতিক্রমী। তাই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চাইনিজ জামাইকে দেখতে আসছেন। সবাই আনন্দের সঙ্গেই বিষয়টি গ্রহণ করছেন।’
তন্দ্রার মা শিউলি বেগমও খুশি। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয়। ছেলেটি বিয়ে করার জন্য চীন থেকে এসেছে, বিয়ের আগে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেছে। আমরা খুশি মনেই মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।’
ভিন্ন দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর এই গল্প এখন যশোরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। প্রমাণ করলো, ভালোবাসার কাছে ভিসা, ভাষা আর ভৌগোলিক দূরত্ব- সবই তুচ্ছ।


























