‘মুক্তেশ্বরী নদীর মতো কোনো নদী দখলমুক্ত করতে গেলে কেউ যেন আইনি ফাঁকফোকর বা মামলা করে অভিযান বন্ধ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
যশোরে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন প্রকল্পে দ্রুত গতিতে শেষ হচ্ছে। জেলার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনায় থাকা ২১টি খালের মধ্যে ১১টির খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি খালগুলোর খনন কাজও দ্রুত শেষ হবে।
একই সঙ্গে জেলার নদী ও খালে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নদী-খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় খাল খনন, নদী সংরক্ষণ ও দখল উচ্ছেদ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
‘নদী দখলের কোনো সুযোগ নেই’
সভায় সভাপতির বক্তব্যে যশোরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘নদী দখল করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব। সকল নদীর সীমানা ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে। শহর থেকে শুরু করে বসুন্দিয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
নদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে যাতে আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতার কথা জানান ডিসি। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সিএস রেকর্ডকে ভিত্তি করেই নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়। মুক্তেশ্বরী নদীর মতো কোনো নদী দখলমুক্ত করতে গেলে কেউ যেন আইনি ফাঁকফোকর বা মামলা করে অভিযান বন্ধ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদারসহ জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌর এলাকায় দখল উচ্ছেদে বিশেষ কমিটি
যশোর পৌরসভা এলাকার নদী ও খাল দখলমুক্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি বিশেষ উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিসি জানান, এই কমিটি দ্রুত তদন্ত করে নদী-খাল দখলের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন দেবে।
২১ খালের মধ্যে ১১টির খনন শেষ
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জেলার নদী ও খালের সীমানা নির্ধারণ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় যশোরে ২১টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি খালের খনন কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট খালগুলোর কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, ল্যাব এইডের পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ক্ষেত্রে তিনি নিজে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আপারভদ্রা নদীর ৫০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যশোরের কেশবপুর উপজেলার আপারভদ্রা নদীতে চিহ্নিত ৮৮টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে ৫০টি ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ নদীর মোট ১০ দশমিক ৯৫ একর জমির মধ্যে ৫ দশমিক ৯৮ একর জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
৩১ খালে চলছে খনন কার্যক্রম
জেলার নদী ও জলাশয় সংরক্ষণে বর্তমানে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। চলমান প্রকল্পের আওতায় যশোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২১টিসহ মোট ৩১টি খাল খননের কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব খালের মোট খনন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ দশমিক ১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রকৃত খালের দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৪১৫ কিলোমিটার।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি বর্তমানে ৬১ দশমিক ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।


























