বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬

১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএডিসি গুদামে খালাসে ধীরগতি, সারের গুণগত মান নষ্টের আশঙ্কা

ঊবাঈদ সামি

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ২৪ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৯:০০, ২৪ জুন ২০২৬

বিএডিসি গুদামে খালাসে ধীরগতি, সারের গুণগত মান নষ্টের আশঙ্কা

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) যশোরাঞ্চলের গুদামগুলোতে ট্রাকযোগে পৌঁছানো সার খালাসের কাজে বিলম্ব হওয়ায় নৌবন্দর এলাকায় খোলা আকাশের নীচে ড্যাম্পে পড়ে আছে হাজার হাজার মেট্রিক টন সার। এতে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে সারের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিলম্বের কারণে বিগত দিনের মতো সার পরিবহণ ঠিকাদারদের মাধ্যমে কালো বাজারে বিক্রির ঝুঁকিও বাড়ছে। 


যদিও পরিবহণ ঠিকাদারদের দাবি, গুদামগুলোতে জায়গার সংকটের অযুহাতে সার গ্রহণ না করায় পরিবহণ ব্যয় বেড়ে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালাসের কাজে ধীরগতির কারণে যশোরাঞ্চলের অধিকাংশ বিএডিসি গুদামের সামনে ও পার্শ্ববর্তী স্থানে সারভর্তি ট্রাকের লম্বা লাইন। এছাড়া খুলনার ভৈরব নদের তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট ও ফুলতলা এবং বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার বিভিন্ন ঘাটে খোলা আকাশের নিচে হাজার হাজার বস্তা সার পড়ে রয়েছে। কোন কোন সারের ড্যাম্পের উপর পলিথিন কিংবা ত্রিপল টাঙিয়ে দেওয়া হলেও রোদ-বৃষ্টিতে সৃষ্ট আদ্রতার প্রভাব সারের উপরেই পড়ছে। ফলে কৃষকের কাছে ভর্তুকি মূল্যে মানসম্পন্ন সার পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্য, ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।   

বিএডিসির গুদামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সার খালাসের কাজে ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন ট্রাক চালকেরা। ফলে চালকেরা হোটেলে অবস্থান করায় থাকা-খাওয়াসহ গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 
যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা বিএডিসির গুদামে সার বহন করে আনা একটি ট্রাকের চালক আলম হোসেন বলেন, সাতদিন আগে নওয়াপাড়া থেকে এখানে সার নিয়ে এসেছি। এখনো পর্যন্ত সার গুদামে খালাস করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, সার বহনে ট্রাক ভাড়া ৮ হাজার টাকা। যার মধ্যে তেল খরচ ৫ হাজার টাকা ছাড়াও অন্যান্য খরচ ১ হাজার টাকা। ৭ দিন ধরে আমি ও আমার হেলপার (সহকারী) হোটেলে অবস্থান করছি। এতে অনেক টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে ট্রাক মালিককে লোকসান গুনতে হবে। আর আমরাও নতুন ট্রিপ ধরতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই ট্রাক চালকের মতো গুদামটিতে সার খালাসে আসা অন্য চালকেরাও একই রকম দাবি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই গুদামটিতে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক সার খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ট্রাকের চালকেরা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা সার খালাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। গুদামে অবস্থানকালে ট্রাক চালক ও খালাসি শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে সার ২৫টি বস্তার লটে সাজানো হতো। গুদামে জায়গার সংকট থাকায় ৪৫ থেকে ৫০ বস্তার লটে সাজানো হচ্ছে । ফলে খালাসের কাজ আগের চেয়ে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
সার খালাসি শ্রমিক সর্দার নুর ইসলাম বলেন, লোকবল কম থাকায় খালাসের কাজে ধীরগতি চলছে। সার অনেক দূর টেনে নিয়ে গিয়ে খালাস দিতে হয়। গুদামে জায়গার সংকটে সার উঁচু করে সাজাতে হচ্ছে । এতে সময় লাগছে অনেক বেশি। 
যশোর বিএডিসি সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিএডিসির মোট সার গুদাম রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে ঝিকরগাছা গুদামে ৪০০ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা থাকলেও লোকবলের অভাবে সার সংরক্ষণ বন্ধ রয়েছে। বাকি ৯টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন। বর্তমানে গুদামগুলোতে মজুত রয়েছে ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ সার গুদামে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সংস্থাপন বিভাগ) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গুদামে সার খালাস করতে খুলনা ও নওয়াপাড়া থেকে একসঙ্গে অনেক সারবাহী গাড়ি আসছে। লোকবল সংকটের কারণে খালাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: