‘ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প’- নামে যশোর থাকলেও কামে যেন চরম অবহেলার শিকার এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেলপথে দিনে মাত্র একটি ট্রেন দুইবার যাতায়াত করে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি যশোরবাসীর সাথে এক ধরনের প্রতারণা। এমন তীব্র ক্ষোভ ও বঞ্চনাবোধ থেকে অবিলম্বে ঢাকাগামী ভোরবেলার ‘প্রভাটী ট্রেন’ চালুর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর।
সোমবার দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে যশোর ৎধরষধিু জংশন প্ল্যাটফর্মে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সর্বস্তরের জনগণ। ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। প্ল্যাটফর্ম থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে কঠোর ‘রেল অবরোধ’ কর্মসূচিতে যাবে যশোরবাসী।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোরবেলা যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রভাটী ট্রেন’ চালু করা, যাতে সাধারণ মানুষ নিজ বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় অফিস বা হাসপাতালের কাজ শেষ করতে পারেন। একই সাথে কাজ শেষে রাতে ফেরার জন্য একটি ফিরতি ট্রেনেরও দাবি জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- অবিলম্বে বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর হয়ে ঢাকা রুটে ১টি প্রভাতীসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা, সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করা, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে ডবল রেললাইন স্থাপন করা এবং সিঙ্গিয়া রেল স্টেশনে অবিলম্বে ‘রেল কনটেইনার টার্মিনাল’ চালু করে বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি করা।
সমাবেশের সভাপতি ও সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক, জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী বলেন, ‘আমরা ২০২৩ সাল থেকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছি। রেলমন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, মার্চ বা এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেওয়া হবে। এখন জুলাই ২০২৬ চলমান, অথচ সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন নেই। জুন মাসের ডেডলাইন পার হলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। বাধ্য হয়েই আমরা আজ প্ল্যাটফর্মে বসেছি এবং দাবি আদায় না হলে আগস্টে পুরো রেল যোগাযোগ স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।’
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, জিল্লুর রহমান ভিটু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, মাহাবুবুর রহমান মজনু, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, অধ্যাপক সোলজার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, হারুন অর রশিদ, সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ডসহ যশোরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল জানান- ‘বৃষ্টিভেজা দুপুরে শত শত মানুষের এই অবস্থানই প্রমাণ করে, কাঙ্ক্ষিত রেল সুবিধার জন্য কতটা ব্যাকুল হয়ে আছে যশোরবাসী’।


























