বুধবার ০৮ জুলাই ২০২৬

২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ৭ জুলাই ২০২৬

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভারের আনন্দপুর মহল্লার যুবলীগ কর্মী সজীব (৩২)। তারা দুজনই সাভারের আনন্দপুর মহল্লায় বসবাস করতেন। গ্রেপ্তার ও আদালতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাখাওয়াত ইমতিয়াজ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর সমাবেশ শুরু হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগেই হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে আনুমানিক রাত ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০-১৫ ফুট সামনে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং উপস্থিত লোকজন দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনায় চারজন আহত হন, যাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতা ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ঘটনা তদন্তে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান ও সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি ইন্টেলিজেন্স) নূর মোহাম্মদ।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাখাওয়াত ইমতিয়াজ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: