কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিকুল ইসলাম ওরফে তারিফ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় শরিফুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গেছে বলে তাঁর পরিবারের দাবি। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
শরিফুল ইসলাম সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের হরেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জমি-সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলের ভাই আবদুল কুদ্দুস মাখন অভিযোগ করেন, দলের নাম ব্যবহার করে তাঁর ভাইয়ের কাছে ধাপে ধাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এলাকায় বসবাস ও ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দলবল নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বাজারে ‘মামার বাড়ি’ নামের একটি টক-মিষ্টির দোকানের সামনে শরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, তারিকুল ইসলাম তারিফের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফসহ ১২ থেকে ১৩ জন ব্যক্তি এ হামলায় অংশ নেন।
কপর্যায়ে মারধরের শিকার হয়ে শরিফুল মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তাঁকে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় তারিফ রড দিয়ে শরিফুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলার সময় শরিফুলের ব্যবহৃত একটি এফজেড মোটরসাইকেল, একটি আইফোন ও একটি রেডমি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি জমি-সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যুবদল নেতা তারিফসহ হামলাকারীরা আমার পূর্বপরিচিত। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ব্যবসা করার সময় তারিফ আমাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে বলেন। চাঁদা না দেওয়ায় দলবল নিয়ে আমাকে রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।”
এদিকে বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের কাছ থেকেও যুবদল নেতা তারিফ মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আবু তাহের বলেন, “আমি যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হই, তখন সে মিষ্টি খাওয়ার জন্য আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। পরে বিষয়টি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সমাধান করে দেন। এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিকুল ইসলাম ওরফে তারিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ভাত খাইতেছি।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, “উপজেলা যুবদল কমিটির কাছে অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এ আর/


























