শুক্রবার ২৯ আগস্ট ২০২৫

১৩ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যা 

বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ঝিনাইদহে নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যা 

ঝিনাইদহে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে বন্য ও জলজ প্রাণী। একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। প্রকৃতিবিদরা বলছেন, এভাবে বন্য ও জলজ প্রাণী নির্বিচারে হত্যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই এসব প্রাণী হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা ও জনসচেতনতা বাড়ানো উচিত। 

কুমির, শুশুক, মেছো বাঘ; কিংবা গন্ধ গোকুল; কোনো বন্য প্রাণীই ধরা ও হত্যা থেকে বাদ পড়ছে না।  চোখের সামনে পড়লেই হত্যা ও ফাঁদ পেতে এবং তাড়া করে এসব প্রাণী ধরা হচ্ছে। এরপর পিটিয়ে মেরে ফেলে ঘাড়ে ঝুলিয়ে করা হচ্ছে উল্লাসও। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা হচ্ছে লাইভ ও দেওয়া হচ্ছে পোস্ট। খবর পেয়ে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তাদের সামনেই এসব জলজ ও বন্য প্রাণী পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তবে বাধা দিচ্ছে না কেউ। উলটো হত্যায় অংশ নিচ্ছেন। সাপ,বেজি, গুঁইসাপ, বক ও পানকৌড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মানুষের কাছে চরম শত্রু।

একের পর এক এসব প্রাণী হত্যা হলেও স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন নির্বিকার।  বন্যপশু নিধনকারীদের ছবি ও ভিডিও থাকলেও কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জনসাধারণকে সচেতন করতেও নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। শুধু তা-ই নয়,গত কয়েক বছরে কত সংখ্যক বন্য ও জলজ প্রাণী হত্যা হয়েছে সেই তথ্যও নেই স্থানীয় বন অধিদপ্তরের কাছে।

সম্প্রতি শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে খাবারের খোঁজে একটি বিলুপ্তপ্রায় কুমির রাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর কুমিরটি স্থানীয়দের নির্মমতার শিকার হয়। উত্তেজিত জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে ভ্যানে করে শৈলকূপা থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশের হেফাজতে রেখে রাতেই তা খুলনা বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

এই ঘটনার এক মাস না পেরোতেই গড়াই নদীতে জেলেদের জালে আটকে পড়ে একটি শুশুক। পানি থেকে ডাঙ্গায় ওঠাতেই কিছুসময় পর শুশুকটি মারা যায়। সবশেষ, পৌরসভার সাতগাছিতে ঘটে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা। একটি মেছোবাঘ ধানের ক্ষেতে আশ্রয় নিলে ধান কাটা মেশিনে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয় জনগণ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তা ঘাড়ে ঝুলিয়ে উল্লাস করতে থাকে এলাকাবাসী। করা হয় ফেসবুক লাইভও। এভাবে একের পর এক বিরল প্রজাতির প্রাণী হত্যার ঘটনা স্থানীয় পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। গত পাঁচ বছরে এসব প্রাণী হত্যার ঘটনা হাজারো ছাড়িয়েছে।

সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন,স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় বাড়ছে এই হত্যা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিতে পোস্টারিং,মাইকিং কিংবা সভা-সমাবেশ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে প্রকৃতিবিদ সুজন বিপ্লব বলেন, বন্য ও জলজ প্রাণী নির্বিচারে হত্যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উন্মত্ত মবের হাতে ধারাবাহিকভাবে গন্ধগোকূল,কুমির,শুশুক সহ বন্য ও জলজ প্রাণী নির্বিচারে হত্যার শিকার হলেও জনগণকে সচেতন করতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই বলে। 

শৈলকূপা উপজেলা বন কর্মকর্তা মোকলেচুর রহমান বলেন, জনবল সংকট পর্যাপ্ত না। এসব প্রাণী ধরা ও হত্যা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়তে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাণী হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে বন বিভাগকে সর ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।  
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ: