বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম স্ত্রী মাকছুদার জামিন

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে এমপি নজরুলের আপস রফা!

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:১৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে এমপি নজরুলের আপস রফা!

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আইনজীবী। বুধবার আদালতে ওই আপসের বিষয়টি তুলে ধরে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর হলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে এ জামিন শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ইতোমধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে। শুনানিতে উপস্থিত থেকে বাদী জানিয়েছেন, দুই আসামির জামিন দিলে তাঁর আপত্তি নেই।’

তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের মামলায় বাদীপক্ষের আপসের আইনগত প্রভাব রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার বিষয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় তাঁর ১৯ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। এরপর মরিয়ম গাজী নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে ন্যাম ভবনের একটি বাসায় থাকতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: