শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় খাবারের বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় খাবারের বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা

যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার মধ্যে গাজায় নারী ও মেয়েদের জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহের নথিভুক্ত ঘটনা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২৩ শতাংশ বেড়েছে।

ইউএনএফপিএর ১০টি সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাসকারী ২৩০ নারীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, খাদ্যসংকট, আয়হীনতা, স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বাস্তুচ্যুতির মতো পরিস্থিতি নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, খান ইউনিসে এক নারী জানান, গত বছরের দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দুই বস্তা আটার বিনিময়ে বিয়ে দেন। এতে তিনি নিজের ও অন্য সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। বিভিন্ন বাস্তুচ্যুত শিবিরে সাক্ষাৎকার দেওয়া আরও ছয় নারী একই ধরনের বিনিময়ের কথা জানিয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে বাবা-মা হারানো মেয়েরাও বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজা সিটির একটি শিবিরে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, বাবা-মা নিহত হওয়ার পর পরিবারের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়েকে তাদের চাচারা বিয়ে দিয়ে দেন।

ইউএনএফপিএর আগের ও সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, গাজায় বাল্যবিবাহের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকারদের কথিত অপরাধীর সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করার মতো ঘটনা সম্পর্কে সেবা প্রদানকারীদের কাছে তথ্য এসেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন দাবি করেনি সংস্থাটি।

ইউএনএফপিএর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গাজায় নথিভুক্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চে আগের প্রান্তিকের তুলনায় এসব ঘটনা ৩২ শতাংশ এবং এপ্রিল-জুনে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় আরও ২৭ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি বলছে, সেবা ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ বাড়ার কারণেও নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধির একটি অংশ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

তবে ইউএনএফপিএ সতর্ক করেছে, নথিভুক্ত এসব পরিসংখ্যান গাজায় যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা নির্দেশ করে না। কারণ সামাজিক কলঙ্ক, প্রতিশোধের ভয়, সেবাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।

ইউএনএফপিএর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি নেস্টর ওউমুহাঙ্গি বলেন, গাজায় নারী ও মেয়েদের জন্য নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ স্থান, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সহায়তা এবং খাদ্য, আশ্রয়, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: ইউএনএফপিএ, ইন্ডিয়া টুডে

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: