বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬

২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:৪২, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে। এ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ। এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৬ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

৯১৮ একর জমিতে হবে কেন্দ্র

প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির আগে অধিগ্রহণ করা ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এতে প্রকল্পের ব্যয় কমবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিপিডিবি ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এর মধ্যে ব্লক-এতে ৯১৫ দশমিক ৫০ একর এবং ব্লক-বিতে ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমি রয়েছে। ব্লক-এতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ব্লক-বি রয়েছে বিপিডিবির আওতায়।

প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, ব্লক-বিতে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপালের নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এতে তুলনামূলক কম সময়ে ও কম ব্যয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।’

একনেকে ১৩ প্রকল্প

আজকের একনেক সভায় অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচ অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প রয়েছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প এবং পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীরও অনুমোদন মিলেছে।

সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: