বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বিষয়ে প্রশিক্ষণ

প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

প্রকাশিত: ১৩:৩০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৩১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্যামনগরে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বিষয়ে প্রশিক্ষণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (এনবিএস) বিষয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ হয়েছে।

সুইডেন দূতাবাসের অর্থায়নে সিএনআরএসের নেতৃত্বে আইইউসিএন, বেলা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সিডিও ও প্রেরণার অংশীদারত্বে বাস্তবায়নাধীন বিফরআরএল প্রকল্পের আওতায় আইইউসিএন বাংলাদেশ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর উপজেলার লিডার্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা মৎস্য অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কৃষি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, সাংবাদিক ও সিডিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এনবিএসের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সক্ষমতা তৈরি করা।

দুই দিনের প্রশিক্ষণে জলবায়ু ঝুঁকি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন, এনবিএসের ধরন ও প্রয়োগের মানদণ্ড, জলবায়ু বিপদাপন্নতা ও ঝুঁকি নিরূপণ, প্রশমন, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও যোগাযোগ, জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস, মনিটরিং ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন হয়।

প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীরা শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং রমজাননগরের মানিকখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় উপকূলীয় বাস্তবতায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়ন পরিদর্শনের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পান অংশগ্রহণকারীরা। অন্যদিকে মানিকখালী খাল পুনঃখনন পরিদর্শনের মাধ্যমে পানি প্রবাহ, জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও স্থানীয় জীবিকার সঙ্গে জলাভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তারা।

প্রশিক্ষণে বলা হয়, শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মানুষের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই প্রকৃতি-ভিত্তিক কোনো উদ্যোগকে শুধু পরিবেশগত কার্যক্রম হিসেবে না দেখে পানি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও মানুষের জীবিকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এ সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নারী, পুরুষ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক এনবিএস বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের সেশন পরিচালনা করেন আইইউসিএনের পরামর্শক মো. আনিসুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. তারেক আজিজ, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ইসরাত জাহান ইমা, সিডিওর নির্বাহী পরিচালক গাজী ইমরাম, সিএনআরএসের সাইট অফিসার তৌহিদ হাসান এবং ডকুমেন্টেশন ও রিপোর্টিং অফিসার মেহজাবিন মৌ। প্রশিক্ষণে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কণক।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: