আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধা যুক্ত করে মোংলা বন্দরকে ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, ডেঞ্জারাস কার্গো ইয়ার্ড ও আধুনিক হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খুলনায় এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। তিনি জানান, বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। পারমিশন, যন্ত্রপাতি বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও শেষ হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে তা উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাড়ছে কার্গো হ্যান্ডলিং
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে মোংলা বন্দরে জাহাজ চলাচলে জট নেই। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় ১ দশমিক ৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৪ দিন।
নাব্যতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন
পশুর চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা গেলে জেটি পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান। রামপাল থেকে আল্ট্রা সুপার পাওয়ার প্ল্যান্ট পর্যন্ত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ের একটি প্রকল্পও চলমান।
এ ছাড়া বন্দর সক্ষমতা বাড়াতে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।
রেল যোগাযোগও আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন সম্প্রসারণ করা গেলে বন্দরের পণ্য সরাসরি রেলপথে পরিবহনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ঢাকা-মোংলা চার লেন সড়ক ও খুলনা অঞ্চলে বিমানবন্দর নির্মাণ হলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


























