শুক্রবার ২৯ আগস্ট ২০২৫

১৩ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চোখের জলে অবসরে যাওয়া প্রিয় শিক্ষককে বিদায়

দিপংকর বর্মন

প্রকাশিত: ২০:২৫, ২৬ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ২০:২৬, ২৬ আগস্ট ২০২৫

চোখের জলে অবসরে যাওয়া প্রিয় শিক্ষককে বিদায়

অবসরে যাওয়া প্রিয় শিক্ষককে বিদায় দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী আর সহকর্মীদের চোখে জলে বিদায় নেন বিভাগটির প্রধান অধ্যাপক আব্দুল কাদের। মঙ্গলবার সকালে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

ফুল ও বেলুন দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো হয় বিদায় অনুষ্ঠানের কক্ষটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুজন আরিফ। পবিত্র গীতা পাঠ করেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইতি মণ্ডল। এর পরেই প্রদর্শিত হয় অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র। সেখানে ফুটে ওঠে তাঁর শৈশব-কৈশোর থেকে শুরু করে শিক্ষকতা জীবনের নিরলস পথচলার গল্প। এর সঙ্গে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গান পরিবেশনা মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে। 

পার্থ চ্যাটার্জি ও অমিষা বিশ্বাসের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় একে একে শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতি উজাড় করে শোনান। কেউ অশ্রু লুকাতে পারেননি, কেউ আবার আবেগের কাছে হার মেনে খোলা মনে স্বীকার করেছেন-“স্যার, আপনি শুধু শিক্ষক নন, ছিলেন পথপ্রদর্শক।”

এরপর কলেজের বিভিন্ন বিভাগ থেকেও জানানো হয় বিদায়ী সংবর্ধনা। ভূগোল বিভাগের প্রভাষক স্বরূপ কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই মোল্লা, সহযোগী অধ্যাপক মহসিন হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক নীতীশ কুমার কর্মকার বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি।

অনুষ্ঠানটির আবেগঘন আবহ আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে। তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “অধ্যাপক আব্দুল কাদের কেবল একজন শিক্ষক নন, তিনি আমার বন্ধু। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ। এছাড়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. খ. ম. রেজাউল করিম, রসায়ন বিভাগের সাবেক প্রধানসহ আরও অনেক শিক্ষক আবেগমাখা স্মৃতিচারণ করেন। 

সবশেষে শিক্ষার্থীরা মানপত্র ও স্মারক উপহার দিয়ে তাঁদের হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম ।

এই বিদায়ী সংবর্ধনা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং প্রমাণ করে দিল, অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের শিক্ষাজীবন আর অবদান আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। 
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ: