
যশোরে ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে দুই ব্যক্তি মোবাইল ফোন, সোনার চেইন ও ২৪ হাজার টাকা খুইয়েছেন। গত সোমবার রাতে শহরের পাইপপট্টিতে সমবায় ভবনের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এতে জড়িত অভিযোগে শিমুল নামে এক যুবককে আটক করেছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাইপপট্টি সমবায় ভবনের পেছন এলাকায় সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সাগরিকা আক্তার সুমির সঙ্গে উপশহর সেভেন স্টার ফুড কোম্পানিতে কর্মরত হোসেনের বন্ধু মিলনের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। দুই মাস আগে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হতো এবং সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে সাগরিকা আক্তার সুমি ফোন করে মিলনকে পাইপপট্টির সমবায় ভবনের পেছনের বাসায় আসতে বলেন। মিলন বন্ধু হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলে সুমি তাদের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যান।
মামলায় বলা হয়, সেখানে গিয়ে সাগরিকা আক্তার সুমি, তার স্বামী ও সহযোগী আফজাল- দুই বন্ধুর মধ্যে মিলনকে একটি কক্ষে এবং হোসেনকে আরেকটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭–৮ জন সেখানে আসে। এ সময় তারা সাগরিকা আক্তার সুমির সঙ্গে দুই বন্ধুর ছবি তুলে মিলনের কাছে ৫০ হাজার টাকা এবং হোসেনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দুইজনকে বেধড়ক মারধর করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা মিলনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ১৬ হাজার টাকা এবং হোসেনের কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয়। এরপর আরও চাঁদার টাকা দাবি করে ফের মারধর ও হুমকি দিলে দুই বন্ধু টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হন। টাকা তুলতে বুথে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরিকা আক্তার সুমি, শিমুল ও আফজাল দুই বন্ধুকে নিয়ে রওনা দেন। পথে পাইপপট্টি রোডে পৌঁছালে হোসেন কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি তাঁর বন্ধু সাজুকে ঘটনা জানান; সাজু ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিমুলকে আটক করে। অন্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হোসেন কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন