সোমবার ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৩০

খুলনা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৩০, ৫ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৩০

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফলে চলতি বছর খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। রোববার (৪ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৩০ রোগীর মধ্যে ২৬৩ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৬৭ জন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে খুলনা জেলায় দুজন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১৪ হাজার ৪৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ হাজার ৮২৩ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত ৫১ জনের মধ্যে খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটে ৩ জন, যশোরে ২ জন, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৭ হাজার ৩১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ জাতীয় হিসাবেও ডেঙ্গুর ব্যাপক সংক্রমণের চিত্র উঠে এসেছে। ৪ অক্টোবরের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২ হাজার ৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগেই ৩৩০ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার রাখা এবং জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নগর ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: