জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। গত মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এ বৈঠককে ‘বেশ ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের দিক থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কখনো নতি স্বীকার করবে না। তবে আমরা মনে করি, কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের ইতি টানা সম্ভব।’
সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গতকাল ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘকে নিজেদের ‘অপপ্রচারের’ জন্য ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তারা।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি হবে কি না, যার মাধ্যমে ইরান নিজেকে ‘পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও অনেক শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠতে পারে’, নাকি ‘আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেব’—এ বিষয়ে আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ট্রাম্পের বক্তৃতায় ইরান প্রসঙ্গ আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। শুধু একজন প্রতিনিধি তাঁর আসনে বসে ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন। জুনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে এটা প্রথম বৈঠক। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি বৈঠক হয়নি।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার আগে ট্রাম্প ওই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘স্টিভ ও জ্যারেড ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। দেখা যাক কী হয়।...তাঁরা কিছুদিন ধরে মধ্যস্থতা করে আসছেন। তবে আমার মনে হয়, সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে তাঁদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, মধ্যস্থতাকারীরা সারা দিন দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা দেওয়া–নেওয়া করেছেন।...মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের কাজ চালিয়ে যাবেন।


























