রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ধরা পড়ল খাতা দেখায় পরীক্ষকদের ভয়াবহ গাফিলতি

সালমান হাসান রাজিব

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ধরা পড়ল খাতা দেখায় পরীক্ষকদের ভয়াবহ গাফিলতি

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে এবার শুধু গতানুগতিক নম্বর গণনার ভুল নয়, পরীক্ষকদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার তথ্য উঠে এসেছে। সঠিক উত্তর লিখেও নম্বর না দেওয়া, প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক কম নম্বর দেওয়া এবং প্রাপ্ত নম্বরের অর্ধেক ওএমআর শিটে তোলার মতো গুরুতর ভুল ধরা পড়েছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে এসব চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে আবেদন করা হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার ১ হাজার ৬৮৪ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে অকৃতকার্য হওয়া ৩৮০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছে। এদের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার শিক্ষার্থী মো. সিয়াম অন্যতম। ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে ফেল (এফ গ্রেড) থেকে পুনঃনিরীক্ষণে সে জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়েছে।

চৌগাছার শাহাদাৎ পাইলট হাইস্কুলের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম। প্রকাশিত ফলে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে এফ গ্রেড পাওয়ায় সে অকৃতকার্য হয়। পুনঃনিরীক্ষণের পর একই বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে কৃতকার্য হয়েছে।

সিয়ামের মা ফারাজানা রূপ জানান, অকৃতকার্য হওয়ার পর তাঁর ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অভিভাবক হিসেবে সামাজিক নানা কটুকথাও শুনতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর ভাষ্য, প্রথমবারেই যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এ ঘটনার কারণ খুঁজে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, এবার কেবল নম্বর পুনর্গণনার মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। উচ্চপর্যায় থেকে দেওয়া মূল্যায়ন নির্দেশিকা (রুব্রিক্স) অনুসরণ করে নতুন মূল্যায়নকারীরা প্রতিটি উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করেন। এতে দেখা যায়, কোনো কোনো খাতায় পরীক্ষার্থী উত্তর লিখলেও প্রথম পরীক্ষক তা মূল্যায়নই করেননি। আবার কোথাও খাতার ভেতরের নম্বর কভার পেজে বা ওএমআর শিটে ভুলভাবে তোলা হয়েছে। পুনর্গণনা ও সঠিক মূল্যায়নে কোনো কোনো পরীক্ষার্থীর নম্বর ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ পর্যন্ত বেড়েছে।

যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অকৃতকার্য থেকে পাস করা ৩৮০ জনের মধ্যে ১ জন ‘এ’, ৩ জন ‘এ মাইনাস’, ৩৩ জন ‘বি’, ১৯ জন ‘সি’ এবং ৩২৪ জন ‘ডি’ গ্রেড পেয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ৭৩১ জন পূর্বে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছিল। অন্যান্য গ্রেডেও অনেক শিক্ষার্থীর নম্বর ও জিপিএ বেড়েছে।

বিদ্যমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় এক-দুই নম্বরের ব্যবধানে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় উল্লেখ করে শিক্ষানুরাগী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এটিকে পাবলিক পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতার ওপর বড় অভিঘাত হিসেবে দেখছেন। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলনকর্মী ব্রাদার টিটো এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি যশোর জেলার আহ্বায়ক খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত অভিযোগ করেন, পরীক্ষকদের এই অবহেলা শিক্ষার্থীদের জীবন ও মনস্তত্ত্বে অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাঁরা জড়িত পরীক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়ামত এলাহী জানান, সরকারের দেওয়া ‘রুব্রিক্স’ অনুসরণ করে প্রতিটি খাতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হাশেম আলী বলেন, খাতা দেখায় ভুল ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বোর্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: