মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোজায় শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোজায় শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু

রমজান মাসে পানির পরিমাণ নির্ভর করে একজন ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য, পরিবেশের তাপমাত্রা এবং দৈনন্দিন শারীরিক কাজের উপর। তবে সাধারণভাবে, সুস্থ মানুষের জন্য দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা রোজা রাখছেন।


রোজার সময় ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে সাহরি এবং ইফতারের সময় পানি পান করা খুবই জরুরি। সাহরিতে পানি পান করলে দিনের মধ্যে শরীর থেকে ফ্লুইড কমে যাওয়া রোধ করা যায়। ইফতারের সময় পানি পান করলে রোজার সময় হওয়া তৃষ্ণা মেটানোও সহজ হয়।


রোজার সময় কতটা পানি পান করা উচিত
প্রত্যেক ব্যক্তির পানির চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য দৈনিক প্রায় ২.৭ লিটার এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য প্রায় ৩.৭ লিটার পানি প্রয়োজন। এই পরিমাণ পানি পান এবং খাবারের মাধ্যমে নেয়া মিলে হিসাব করা উচিত। রমজান মাসে পর্যাপ্ত পানি পান করে সুস্থ থাকা এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অনুসারে এই পরিমাণ সামঞ্জস্য করা জরুরি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


রমজানে পানির গুরুত্ব
রমজানের সময় পানি পান করা শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে এবং সুস্থ থাকতে অনেক সুবিধা দেয়। মূল কিছু কারণে পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ-


ডিহাইড্রেশন রোধ করে: রোজার সময় দেহে পানি কমে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে দেহের জলীয় ভারসাম্য বজায় থাকে। ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাব।


শক্তি বাড়ায়: পানি শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রমজানে পর্যাপ্ত পানি পান করলে দিনের সময় শক্তি বজায় থাকে এবং রোজাদারদের সারা দিন বেশি সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে।


মেটাবলিজমকে সাহায্য করে: পানি পাচনতন্ত্রকে সমর্থন করে, যা ইফতার এবং সাহুরে খাওয়া খাবার হজম করতে সাহায্য করে।


ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে: ডিহাইড্রেশনের কারণে রোজার সময় ত্বক শুষ্ক হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ত্বক উজ্জ্বল থাকে।


স্বাস্থ্য সমস্যা কমায়: পর্যাপ্ত পানি পেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ, কিডনির পাথর এবং হজমের সমস্যা কমে। এছাড়া, ডিহাইড্রেশন রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


তাপ থেকে রক্ষা করে: রমজান সাধারণত গরম সময়ে হয়। পর্যাপ্ত পানি পান দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা করে।


পানি খাওয়ার জন্য কিছু পরামর্শ
- সাহরি এবং ইফতারের মধ্যে পানি পান করতে ভুলবেন না।


- ইফতার শুরু করুন পানি বা হালকা পানীয় দিয়ে।


- ইফতারের পর এবং সাহরির আগে পানি পান চালিয়ে যান।


- চা, কফি বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পানি হিসেবে গণ্য হয় না।


ইফতারে খুব বেশি লবণাক্ত বা মশলাদার খাবার এড়ান, কারণ এগুলো ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।


ডিহাইড্রেশন মাথা ব্যথা, দুর্বলতা এবং মনোযোগ কমার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই রমজানে পর্যাপ্ত পানি পান করা সুস্থ রোজার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি পান সামঞ্জস্য করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


রমজানে পানি খাওয়া শুধু তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নয়, বরং সার্বিক শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও অপরিহার্য। সাহুর ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করলে রোজাদাররা সহজেই শক্তি বজায় রাখতে পারেন এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে পারেন। সুস্থভাবে রোজা পালন করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা নিশ্চিত করুন।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: