স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনিকে চুক্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে এদিন দুপুরে তিনি নতুন পদে যোগ দেন।
এ সময় সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি এ দায়িত্বের ভার বহনের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমার সাধ্যমতো অতীতে যেভাবে কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করবো।
গাসিমুল গনি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিযুক্ত হলেন। এরআগে, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগে সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ দেন। তিনি ওই পদে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট যোগ দেন। এরপর একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে বদলি করা হয়। সুনামের সাথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ১৯৮২ ব্যাচকে বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসে অন্যতম মেধাবী ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ১৪২ জনের মেধাতালিকায় নাসিমুল গনির অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।
নাসিমুল গনি ১৯৮৩ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। চার বছর রাঙ্গামাটিতে কর্মরত থাকার পর তাঁকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি একাডেমির উপপরিচালক এবং পরবর্তীতে যুগ্মপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯০ সালে তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৯১ সালে ভূমি মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে বদলি হন। পরে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৫ সালে তাকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক বছর পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফিরে তিনি ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৯ সালে তাকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০১ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং জামালপুর জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন।
২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৭ সালে তাকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।
২০০৯ সালে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়।
নাসিমুল গনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১৯৮০ সালে অনার্স এবং ১৯৮১ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রোজানা নাসিমের সঙ্গে বিবাহিত। তাদের পরিবারে এক পুত্র, পুত্রবধূ, এক কন্যা এবং এমির আদেমার গনি নামে এক পৌত্র রয়েছেন।


























