রানার ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটের মাঠ বিপন্ন হলে সেটি তরুণরা বরদাশত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও সংঘাতের তথ্য তুলে ধরে নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জামায়াত আমিরের মন্তব্য জানতে চান। জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার জীবনে একবারের জন্যও ভোট দিতে পারেনি। ভোটের মাঠ বিপন্ন হলে সেটি তরুণেরা বরদাশত করবে না বলে জামায়াত বিশ্বাস করে। ভোটাররাই এর জবাব দেবে। শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বাহিনী যেন তাদের কর্তব৵ পালন করে। তাহলে জনগণকে কিছু করতে হবে না। তবে তারা ব্যর্থ হলে জনগণ তাদের দায়িত্ব ঠিক পালন করবে এবং সুষ্ঠু ভোট আদায় করে নেবে।
পরপর চারটি নির্বাচনে মানুষ তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গ্রামের ভোটাররা দলে দলে অনেকটা ঈদের উচ্ছ্বাসের মতো করে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের মনের মতো সরকার দেখতে চায়।
ভোটের ফলাফল যা-ই হোক, সেটি জামায়াতসহ ১১ দল মেনে নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের চোখে ভোট সুষ্ঠু হলে জামায়াত সেটি মেনে নেবে। জনগণ সঠিক রায় দেবে বলেই বিশ্বাস করে জামায়াত।
নির্বাচনের দিনেও বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হতে পারে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য না যাওয়া পর্যন্ত কোনো বিভ্রান্তিমূলক কথায় কান দেওয়া যাবে না।
জামায়াত আমির কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যারা পরাজয়ের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, যেকোনো পক্ষ যেকোনো কাজ এ ধরনের করতে পারে। মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে পারে ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য, আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য। কিন্তু না, সবকিছুকে জয় করেই ইনশা আল্লাহ আপনারা সেদিন আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং ভোটের রেজাল্ট হাতে না নিয়ে আপনারা কেউ ফিরবেন না। কারণ, আপনি ভোট দেওয়ার পরেও আপনার ভোট নয়ছয় হয়ে যেতে পারে। আবার ভোট দেওয়ার আগেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা—কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণকে বলব যে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। জনগণের সচেতনতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই কেবল সকল অপতৎপরতার উপযুক্ত জবাব হতে পারে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যুবসমাজ ঘুমিয়ে পড়েনি। তাদের অসমাপ্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য তারা এই নির্বাচনকে সফল করে তুলবে যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে। কেউ অন্য কিছু করতে চাইলে আমরা অনুরোধ করব জনগণ যেন নিজেদের অধিকারের পক্ষে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং স্পষ্ট জবাব দিয়ে দেয়। আমরা আশা করছি, জনতারই বিজয় হবে শেষ পর্যন্ত ইনশা আল্লাহ।’
ব্রিফিংয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কেউ নির্দিষ্ট কারও পক্ষ নেবে, সেটি জামায়াত দেখতে চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও আনুকূল্যও চাই না, আবার আমরা অন্য কাউকে আনুকূল্য দেখানো হোক, সেটাও আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই সবাই নিরপেক্ষতার সাথে যার যার জায়গা থেকে এ দায়িত্ব পালন করবেন।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘পেছন পথে কেউ এসে কিছু করে সফল হতে পারবে না, এটা আমরা মনে করি না। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যাঁরা আছেন, নির্বাচন কমিশন তারপরে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত এবং যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত, শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত—তাঁদের সকলের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ দেশ আপনাদেরও। আপনারা ন্যায়নিষ্ঠভাবে, নিরপেক্ষভাবে, সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে জনগণের ভালোবাসা পাবেন, সমর্থন পাবেন এবং জনগণ আপনাদের এই কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে অবশ্যই আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। বিপুল ব্যবধানে হ্যাঁ বিজয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে, অতীতের নির্যাতন–নিপীড়নের অবসান হবে ও এর যৌক্তিক বিচার হবে, আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে শরিফ ওসমান বিন হাদি পর্যন্ত সবার হত্যার বিচার তাদের পরিবার পাবে।
জাতি অতীত রাজনীতির ভুক্তভোগী উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছরে দুর্নীতি–দুঃশাসনের কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। জামায়াতের অবস্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সুশাসনের পাশাপাশি তারা সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার কায়েম করতে চান।
ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত অন্য দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
/এম আই/


























