ছবিঃ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি,
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে সামরিক কোনো সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষের আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বোমা হামলা শুরু করলেও তাতে যুদ্ধের কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। বর্তমান বিরোধের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের চেষ্টা। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে রোববার একটি অজ্ঞাত বস্তুতে আরও একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা।
বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘আমাদের শত্রুরা যদি আবার সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে আমাদের জবাব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে এবং আমরা আরও বেশি শক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করব।’
তিনি বলেন, ‘সামরিক কোনো সমাধান নেই, নতুন নিষেধাজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেও কোনো সমাধান সম্ভব নয়। কেবল ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা করেই এই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব।’
চলতি বছরের জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল। এতে স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালী দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে দেশটি হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। অবরোধ ভঙ্গের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছে।
রোববার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকার ‘অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
তবে ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, জাহাজটির কোথা থেকে কোথায় যাওয়ার কথা ছিল কিংবা সেটি তেলবাহী ট্যাংকার নাকি এলএনজি বহনকারী জাহাজ—এসব তথ্য সংস্থাটি জানায়নি।


























