আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাসসের প্রধান সম্পাদক
স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কখনোই সরকারের শত্রু বা প্রতিপক্ষ নয়।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরীর সৌজন্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন কাভার করতে আসা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা গণমাধ্যমের কাজ, যা শেষ পর্যন্ত দেশ ও সরকারের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সঙ্গে শত্রুতা করে কোনো সরকারই উপকৃত হতে পারে না।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমের আনুগত্য থাকবে কেবল সত্য ও জনগণের প্রতি, কোনো দল বা ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রতি নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের শত্রুরাই গণমাধ্যমের শত্রু। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, সে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও বজায় থাকে না।’
স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দিয়ে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, গণমাধ্যমকে যেমন সবার কথা তুলে ধরতে হবে, তেমনই অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দেশে প্রাতিষ্ঠানিকতাহীন পত্রিকা প্রকাশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা প্রকাশের ঢালাও সুযোগ বন্ধ হওয়া দরকার। হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া বেশিরভাগেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। ওয়েজবোর্ড মেনে চলা তো দূরের কথা, তারা সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেয় না। গণমাধ্যম শিল্পের এই নৈরাজ্য দ্রুত দূর করতে হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছেন এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের শত্রু ভাবার কোনো কারণ নেই। গণমাধ্যম সরকারকে প্রকৃত সত্যটাই জানাবে, তোষামোদকারীরা কেবল সাফল্যের গল্প বানিয়ে শোনাবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রফেসর সৈয়দ আজাদ, গাজী মনির আহমেদ, মোতাহার হোসেন, নুর মোহাম্মদ, এটিএম হেলালুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, শাহ আলম, নুর আলম, সিনিয়র সাংবাদিক রেজাউল করিম লাভলু, দীন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

























