নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদকে ঘিরে প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলছে জল্পনা–কল্পনা।
সূত্রগুলো বলছে, আইজিপি পদে একাধিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নাম আসছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।
বিশেষ করে র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানকে নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তার নেতৃত্বে র্যাবের কার্যক্রমে যে গতি এসেছে, সেটিকে প্রশাসনের একটি অংশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকায় তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার দ্রুত কার্যকর করা যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পুলিশের শীর্ষ পদে সম্ভাব্য রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি বা ডিএমপি কমিশনার—তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রশাসনের অন্দরমহলে হিসাব–নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, পেশাগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে পুলিশের নতুন নেতৃত্বের চূড়ান্ত তালিকা।


























