চব্বিশের জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘ভোট পাল্টে’ আলোচনায় আসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৃথক দুইটি আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কর্মকর্তাদের ১০ জুনের (গতকাল বুধবার) মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় এদিন অপরাহ্নেই তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
আলোচিত কর্মকর্তা বনি আমিন খানের বদলির আগের একটি আদেশের অংশবিশেষ বাতিল করে, তাকে নড়াইলের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
খামারবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট-কমেন্ট করে নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী সাজিয়ে জাহির করতেন বনি আমিন। তৎকালীন সরকার সংশ্লিষ্টদের নজর কেড়ে পোস্টিং বাগিয়ে নেন কথিত ‘লাভজনক’ এলাকায়। অভিযোগ আছে, ওই সময় হাওরাঞ্চল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ও পরে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্যান) পদে চাকরি করাকালীন ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণকালে বড়ো ধরনের অর্থবাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও কৃষকের জন্য ক্রয়কৃত পটাটো ডিগার, পাওয়ার ট্রিলার চালিত সিডার ও পাওয়ার থ্রেশার বিতরণ ও ক্রয়ে দুর্নীতিতে জড়ান।
তিনি দশমিনা ও বাউফল উপজেলা কৃষি অফিসার পদে চাকরিরত অবস্থায় অফিসের অতিরিক্ত বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেন। যা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য হন।
যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে তাৎক্ষণিক ভোল পাল্টে বৈষম্যবিরোধী সাজেন বনি আমিন। এমনকি খামারবাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং নেওয়ার পাশাপাশি এডিবির ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কৃষি বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ফোকাল পার্সন হিসেবেও নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হন। অভিযোগ আছে, খামারবাড়িতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি-বদলি বাণিজ্যে জড়িত কথিত ‘গাজীপুর’ সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে বনি আমিন অল্প দিনেই নিজেকে উপস্থাপন করেন ভিন্ন রূপে। এমনকি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ-১ শাখা থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খানকে অতিরিক্ত উপপরিচালক (ফুল ও ফল) পদে বদলি করা হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ওই আদেশ না মেনে আগের দায়িত্বেই বহাল ছিলেন তিনি। এতেই প্রশ্ন ওঠে ‘ভোলপাল্টানো দুর্নীতিবাজ কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খানের খুঁটির জোর নিয়ে। এরমধ্যেই সম্প্রতি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়।


























