বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ ও স্টেশন মাস্টারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ইচ্ছেমাফিক অফিস করা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও নিয়মিত পূর্ণ বেতন উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন ইনচার্জ মাসে গড়ে প্রায় ১২ দিন অফিস করেন। একই সঙ্গে স্টেশন মাস্টার পারভীনা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ২০১৭ সাল থেকে বেনাপোল স্টেশনে কর্মরত থাকলেও স্টেশনের সরকারি টেলিফোন বাসায় নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ট্রেন পরিচালনা সংক্রান্ত যোগাযোগ রক্ষা করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১২ ঘণ্টার ডিউটির মধ্যে তিনি গড়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো স্টেশনে উপস্থিত থাকেন। এতে যাত্রী নিরাপত্তা ও রেলওয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ পরিস্থিতিতে স্টেশনের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে গিয়ে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সহকারী ইয়ার্ড ফোরম্যান মেহেদী হাসান তালুকদার ও মহিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও পূর্ণ মাসের বেতন উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পয়েন্টসম্যান সাহাদাত হোসেন প্রতিদিন কর্মস্থলে হাজির না হলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পূর্ণ উপস্থিতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্টেশন ইনচার্জ আয়নাল হাসান বিশ্বাস বলেন, স্টেশনে তিনজন স্টেশন মাস্টার পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।
স্টেশন মাস্টার পারভীনা খাতুন বলেন, তার বাসা স্টেশনের কাছাকাছি। ছোট সন্তান থাকায় মাঝে মাঝে বাসায় যাতায়াত করতে হয়। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।


























