শারদীয় দুর্গাপূজার প্রারম্ভে মহালয়ার শুভক্ষণে সনাতন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান ও বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে যশোরে তিলতর্পণ অনুষ্ঠানসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শোক, তাপ, দুঃখ, অমঙ্গল ও অন্ধকার দূর করে শুভ, মঙ্গল এবং আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী দুর্গাদেবীকে হিমালয় থেকে মর্ত্যে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়। পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে চিরাচরিত প্রথায় শুভারম্ভ হলো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার।
সনাতন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষে মহালয়ার এ শুভক্ষণে দুর্গতির নাশকারী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পরলোকগত পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তিলতর্পণ অনুষ্ঠান, চণ্ডিপাঠ এবং ধর্মীয় আলোচনা। এসব অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দ ছাড়াও বিশিষ্ট সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, দেবীপক্ষের আগের কৃষ্ণা প্রতিপদে মর্ত্যধামে নেমে আসেন পিতৃপুরুষরা এবং উত্তরসূরিদের কাছ থেকে তিল, তুলসী ও জল পাওয়ার অপেক্ষা করেন। মহালয়ার দিন অমাবস্যায় তাঁদের উদ্দেশে তিল, তুলসী ও জলদানই হলো তর্পণ। তাই এই পুণ্যতিথিতে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
যশোরে বিভিন্ন মন্দ ও আশ্রমে যথাযথ মর্যাদায় এই অনুষ্ঠান পালিত হয়:
রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের পুকুরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এখানে তিলতর্পণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে পৌরহিত্য করেন কালীপদ চক্রবর্তী।
শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির উদ্যোগে কালেক্টরেটের উত্তরপাড়ে আয়োজিত তিলতর্পণ অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন উজ্জ্বল লাহিড়ী।
সনাতন ধর্মসংঘ যশোরের উদ্যোগে পৌর উদ্যান পুকুরে সকালে পূজা, চণ্ডিপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে তিল তর্পণ ও পার্বণশ্রাদ্ধের আয়োজন করা হয়, যেখানে পৌরহিত্য করেন সনাতন ধর্ম সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল কুমার চক্রবর্তী।
শাস্ত্র মতে, মহালয়ার রয়েছে দুটি পর্ব—পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে এবং প্রতিপদ তিথিতে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়ার এই তিথিতে প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনায় ভক্তরা তর্পণ ও অঞ্জলি প্রদান করে থাকেন।


























