রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬

২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘারপাড়ায় শতকণ্ঠে চণ্ডীপাঠ ও মাতৃ আবাহন 

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাঘারপাড়ায় শতকণ্ঠে চণ্ডীপাঠ ও মাতৃ আবাহন 

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনায় যশোরের বাঘারপাড়ায় উদযাপিত হয়েছে শারদোৎসবের অন্যতম প্রস্তুতি পর্ব। 
শনিবার সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাঘারপাড়া শাখা এবং কালুডাঙ্গা হাজরাতলা শিব মন্দিরের সার্বিক সহযোগিতায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় “দেবী মাহাত্ম্যম্ : শতকণ্ঠে মাতৃ আবাহন”।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন, শঙ্খনাদ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ এবং হরিলীলামৃত পাঠের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাদেবী দুর্গার আবাহন জানানো হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় মহিষাসুরমর্দিনী, ভক্তিপূর্ণ চণ্ডীপাঠ, শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্, মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও সংগীত। বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রায় শতকণ্ঠে সমবেত চণ্ডীপাঠ, যা পুরো মন্দির প্রাঙ্গণকে এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক আমেজে মুখরিত করে তোলে।

কালুডাঙ্গা হাজরাতলা শিব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ, স্বামীবাগ, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক রানারের ডেপুটি এডিটর প্রণব দাস, চ্যানেল ওয়ান নিউজ-এর যশোর জেলা প্রতিনিধি ইন্দ্রজিৎ রায়, খুলনা ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সুমন কুমার দাস, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ যশোর জেলা সভাপতি বিদ্যুৎ দে। সভাপতিত্ব করেন রবীন অধিকারী। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বাঘারপাড়ার সভাপতি চন্দন ভট্টাচার্য, যিনি একই সাথে শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্ পাঠ করেন।
পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ করেন অনিন্দিতা সাহা রাই, প্রত্যয় রায়-সম, তপু সরকার ও প্রান্ত চক্রবর্তী। এছাড়া হরিলীলামৃত পাঠ করেন অক্ষয় সরকার।

সাংস্কৃতিক পর্বে ভক্তিগীতি ও নৃত্য পরিবেশন করেন অনুপম রায়, মিন্টু মজুমদার ঐন্দ্রিলা, রুদ্র বিশ্বাস, সৃষ্টি বিশ্বাস, অদ্রিতা অর্থী, দিব্য বিশ্বাস, সেঁজুতি বিশ্বাস, সৌম বিশ্বাস, প্রেমা বিশ্বাস, দ্যূতি বিশ্বাস, অর্ঘ্য বিশ্বাস, অদ্রিতা ঘোষ, চন্দ্রা বিশ্বাস, অন্বেষা মন্ডল, প্রত্যয় রায়-সম, সাগর পাল, সপ্তক বিশ্বাস, অদ্রিতা মজুমদার, হীরা রায়, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সাগর রুদ্র, কমল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, উজ্জ্বল হালদার, মিন্টু বিশ্বাস ও বাসুদেব সেন প্রমুখ।

এদিকে, মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী। হাজরাতলা শিব মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। মন্দির চত্বরকে কেন্দ্র করে বসা গ্রামীণ মেলা উৎসবে যোগ করে বাড়তি আনন্দ। মেলায় শাঁখা-সিঁদূর, আলতা, পলা, চুড়ির পাশাপাশি পাঁপড়, বাদাম, ঝালমুড়ি, আখের রস, বাতাসা, গজা, মিষ্টিদ্রব্য ও শিশুদের বিভিন্ন খেলনাসহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাঘারপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: