রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে মার্কিন, ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। যুদ্ধ সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তবে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর চুক্তির ঘোষণা দেন। এতে যুদ্ধের সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি কীভাবে জড়িয়ে পড়েছে, তা নতুন করে সামনে এসেছে।
বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আলোচনাটি ছিল গঠনমূলক। শীত আসার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো ও সংঘাতের অবসানে সম্ভাব্য পথ খোঁজার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উইটকফ জানান, বৈঠকে ইউরোপের তিন প্রধান শক্তি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সমন্বিত উদ্যোগ ‘ই৩, ইউরোপীয় কমিশন, ইউক্রেন ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, শস্য রপ্তানি, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) দেশটির অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায় সহায়তার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান উইটকফ। শনিবারও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এমন এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
লিসবনে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘অচলাবস্থার আরেকটি পরিণতি হতে পারে সংঘাতের আরও বিস্তার।’ এতে প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রুবিও আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি না যে এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান আছে।’
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দিতে সাময়িক অনুমতিপত্র জারি করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।


























