মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

প্রকাশিত: ১০:২০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নিতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের পৃথক রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবির পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এসব করবর্ষের বিপরীতে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ১২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। দুটি রিটের একটিতে দেওয়া রায় ১৫ পৃষ্ঠার, অপরটি ৩২ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আবেদনকারীর বকেয়া করসংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে। লিভ টু আপিল দুটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারী গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আপাতত অর্থ আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি ১৩ ডিসেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

পৃথক রিটে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে যত দ্রুত সম্ভব, রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে

বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অপর রায়ে আবেদনকারীর বকেয়া করসংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। দুটি রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু স্থগিত করা হয়েছে। লিভ টু আপিল দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: