ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জামানাত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (লাঙল) পাঁচ জন, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) ছয়জন, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) দুই জনের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মই) একজন, খেলাফত মজলিশের (দেয়ালঘড়ি) একজন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ-এর (টেলিভিশন) একজন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (চশমা) একজন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) একজন, বাংলাদেশ মাইনরিটির জনতা পার্টির- বিএমজেপি (রকেট) একজন, গণ অধিকার পরিষদের (ট্রাক) একজন, স্বতন্ত্র পাঁচজনের মধ্যে চারজন (মোটরসাইকেল, ফুটবল, ঘোড়া, কলস)। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের বার্তা শিট পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, সংসদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, কোনো আসনের নির্বাচনের প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছিল। যা ইসি সচিবের নামে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ব্যাংকে রাখতে হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সেই হিসেবে যশোরে জামানত হারানো ২৪ প্রার্থীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।
প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর- ১ (শার্শা) আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ১৫ হাজার ৩১। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭০ দশমিক ৪৮ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২৬ হাজার ৯৭৫ ভোট। কিন্তু জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল মাত্র এক হাজার ৩৯৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান এক হাজার ৭৬৮ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আজীজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
যশোর- ২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৩৪ হাজার ৮৯১। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭০ দশমিক ৫৩ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪১ হাজার ৮৬১ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী র বক্তিয়ার রহমান ৫ হাজার ৭৮১ ভোট, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) রিপন মাহমুদ ৪১৬, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মই) ইমরান খান ৪৭২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ-এর শামছুল হক (টেলিভিশন) ২৩৩, স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ১৮৮, মেহেদী হাসান (ফুটবল) ৩৮৯ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতা পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৭ ভোট।
যশোর-৩ (সদর) আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট চার লাখ ৮০ হাজার ৫৩। যা মোট ভোটারের শতকরা ৬৭ দশমিক ৭৬ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৫১ হাজার ৬ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ১৩ হাজার ৩৩২ ভোট, জাতীয় পার্টির খবির গাজী ৩ হাজার ৪০৪, , জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (চশমা) নিজামদ্দিন অমিত ১ হাজার ৭৭২, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) রাশেদ খান ৭৫৩ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি পেয়েছেন দুই লাখ একহাজার ৩৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট।
যশোর -৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ২৫ হাজার ২৮৩। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭২ দশমিক ২৭ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪০ হাজার ৬৬০ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজিদ হোসাইন ১১ হাজার ৮৩৮ ভোট, খেলাফত মজলিশের আশেক এলাহী ৩০১, গণঅধিকার পরিষদের আবুল কালাম গাজী ২৫৭, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক এক হাজার ৭৫১, বাংলাদেশ মাইনরিটির জনতা পার্টি- বিএমজেপি- এর সুকৃতি কুমার মন্ডল এক হাজার ৫১০ ভোট এবং স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ (মোটরসাইকেল) ৭৯৭ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রছুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৮১ হাজার ৫৪৪। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৬ দশমিক ৫০ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৩৫ হাজার ১৯৩ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন চার হাজার ৪০০ ভোট, জাতীয় পার্টির এমএ হালিম দুই হাজার ২৪৫, স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান (ফুটবল) দুই হাজার ১০৩ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫ ভোট। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী রশীদ আহমাদ পেয়েছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট।
যশোর-৬ (কেশবপুর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট এক লাখ ৭৫ হাজার ৩২২। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৭ দশমিক ৯০ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২১ হাজার ৯১৫ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম এক হাজার ২৮৫ ভোট, জাতীয় পার্টির জিএম হাসান দুই হাজার ৯১০, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) মাহমুদ হাসান ৬৭২ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মোক্তার আলী। তিনি পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসের আজাদ পেয়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার ১৪১ ভোট।


























