বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে সাড়ে ৫ হাজার সিসি ক্যামেরার আওয়তায় থাকবে ভোটকেন্দ্রগুলো

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৪২, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

যশোরে সাড়ে ৫ হাজার সিসি ক্যামেরার আওয়তায় থাকবে ভোটকেন্দ্রগুলো

যশোরের সকল ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ হাজার ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার ৪৭ টা কেন্দ্রসহ শহরের ক্যামেরা স্থাপন ও সচলের কাজ করবে পৌরসভা।
রোববার সকালে কালেক্টরেট ভবনের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলার আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আমাদের টার্গেট রয়েছে জেলার সব ভোট কেন্দ্রে ৬ টা করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা। এতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ক্যামেরা দরকার হবে। এছাড়া ভোট চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহার করবে। অধিক ঝুঁকির এলাকায় অনলাইনে কানেক্ট থাকবে ‘বডি ক্যামেরা’। যা সরাসরি কন্টোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন।

গণভোটের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান ‘হ্যাঁ’ ভোট। ‘হ্যাঁ’ ভোটের  জয় আসলে দেশে একটা সংস্কার আসবে। ভোট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সকল বাহিনী যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সামনে বড় ধরণের অভিযান হবে। দুষ্টু চক্র আছে তারা ভোটকে সামনে রেখে সুযোগ নিতে পারে- তবে আমরা আশাবাদি সকলে মিলে একযোগে কাজ করলে যশোরের পরিবেশ ভালো থাকবে। এ সময় ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে বলেও জানান তিনি। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান’র সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, ডেপুটি সিভিল সার্জেন নাজমুস সাকিব রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন, ৪৯ বিজিবির উপপরিচালক সোহেল আলী, সেনাবাহিনীর মেজর মারুফ হাসান প্রমুখ।
সভায় ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা সংযুক্ত, ফুটপাতের দখল উচ্ছেদ করে শহরের যানজট মুক্ত করা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, নিপা ভাইরাল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, প্রতিদিন উচ্ছেদ অভিযানসহ জেলায় প্রতিদিন একটা করে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালানার কথা বলা হয়। এছাড়া ডিসি অফিস চত্বরে অযথা ঘোরাঘুরি বা টিকটক ভিডিও বানানোর বিষয়েও সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অযথা দর্শনার্থীরা ডিসি অফিসে ডুকতে পারবে না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, যশোর শহরে যানজটের কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। অভিযান চালালে এক শ্রেণি বলে মানবিকতা বলে কিছু নাই। আমরা শহরে প্রতিদিন একবার করে অভিযান চালাবো। গরিবশাহ মাজার থেকে মণিহার, দড়াটানা থেকে জেল রোড পর্যন্ত প্রতিদিন অভিযান করা হবে। অবৈধ ইজিবাইক, রিকসাও আটক করা হবে। 
সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মারুফ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে শার্শা ও চৌগাছা উপজেলা বাদে সব উপজেলায় ক্যাম্প থাকবে। সেনাবাহিনী এক সাথে দুটি স্পটে মুভ করতে পারবে। ভোটের সময় পরিস্থিতি খুব বেশি জটিল না হলে আর্মি কল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়লে সরাসরি অ্যাকশনে নামবেন তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, যশোর ও মণিরামপুরে পরপর দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ব্যবসায়ী স্বার্থ জড়িত। টার্গেট ক্লিলিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বিএনপি নেতা হত্যায় সংশ্লিষ্ট আসামি আটক করা হয়েছে। মণিরামপুরের বিষয়টি সেনসেটিভ হওয়াতে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে মটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা শহরে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। মাদক, অস্ত্রের পাশাপাশি বিশেষ করে ককলেট আমাদের জন্য হুমকি। আমরা আশা করছি- ভোটের আগে সব কিছু ঠিক থাকবে। 
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: