ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ।
স্থানীয়রা জানান, ছাত্ররাজনীতি দিয়েই রাজনৈতিক জীবনে পা রাখেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপশি জাতীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এরপর ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগ দেন জহির উদ্দিন স্বপন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর জহির উদ্দিন স্বপন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতিটি ধাপে একনিষ্ঠতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী দপ্তর সম্পাদক পদে। বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কও ছিলেন তিনি।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান জহির উদ্দিন স্বপন। বর্তমানে একই পদেই আছেন।
ভোটের মাঠের রাজনীতিতেও জহির উদ্দিন স্বপনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। তিনি প্রথমবার বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার দিয়ে তৃতীয়বারের মতো তিনি জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। এবাররে নর্বিাচনে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ) তনিি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।
তিনি ইতোপূর্বে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মূল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা। যা সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব কমিটিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জহির উদ্দিন স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দুবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। এ ছাড়া মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা বিশ্বব্যাপী আইনপ্রণেতাদের নির্দলীয় নেটওয়ার্ক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
মন্ত্রীবিহীন তিন যুগের অবসান : ১৯৭২ সালে তৎকালীণ বাকেরগঞ্জ-১৩ আসনের (বর্তমান বরিশাল-১) আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ-১ (বর্তমান বরিশাল-১) আসনে এরশাদ সরকারের মন্ত্রীসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুনীল গুপ্ত। এরপর এ আসনের কোন সংসদ সদস্য মন্ত্রীসভার তালিকায় স্থান পাননি।
যদিও ১৯৯৬ সালে এই আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে চীফ হুইপ করা হয়েছিলো এবং ২০১৮ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহবায়ক মনোনীত হন, যা বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীর পদমর্যাদার।
তবে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকে বরিশাল-১ আসনে কোন সংসদ সদস্যকে দপ্তরপূর্ন মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর পদে রাখা হয়নি। যে কারনে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী তিনবারের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে পূর্ন মন্ত্রী পদ দেওয়ার দাবি করেছিলেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা। অবশেষে বরিশাল-১ আসনের সর্বস্তরের মানুষের সেই দাবি পূরণ হয়েছে।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, সদ্য অনুষ্ঠতি জাতীয় নর্বিাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী জহির উদ্দিন স্বপন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তাঁকে দলীয় চয়োরম্যান যথাযথ মূল্যয়ন করায় গোটা সংসদীয় এলাকার মানুষ আনন্দে উদ্বলেতি হয়ছে। যা এলাকার উন্নয়ন ও আগামীর রাজনীতরি জন্য সুবাতাস বয়ে আনব।


























