মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের ও প্রথম স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের ও প্রথম স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতের এজলাসে তাদের তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে হাজতখানা থেকে তাদের মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। এ সময় প্রচন্ড ভিড় দেখা যায়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে এদিন দুপুর ২টা ২২ মিনিটে একটি সাদা মাইক্রো গাড়িতে করে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়।

এদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে জিএম নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের (ভবন নম্বর ৫, ফ্ল্যাট ২০৩) বাসায় থাকতেন।

একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে তার পরিবারকে এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে দরজা ভাঙেন।

নিহতের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়েছিল এবং নজরুল ও মাকছুদার ক্রমাগত নির্যাতন ও আসামিদের প্ররোচনা সইতে না পেরেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

শেয়ার করুনঃ