মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবেশী দেশে পাচার ঠেকাতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৬:০৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিবেশী দেশে পাচার ঠেকাতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

 বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার বড় ঝুঁকিতে থাকায় সরকারকে তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে একমাত্র আমাদের বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। এর ফলে একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত-সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা।

তিনি আরও বলেন, এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল যেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার না হতে পারে, সে কারণেই সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করি জনগণ এটি বুঝতে সক্ষম হবে।

তবে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, এর অভিঘাত কতটুকু সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়-সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে জনগণের ওপর প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। আশেপাশের দেশগুলোর জ্বালানি তেলের বাজারদর তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দাম বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে ভারতে (কলকাতায়) প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা ও পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতে, যা আমাদের সাধারণ মানুষ দুবাই বলে চেনে-সেখানেও ডিজেলের মূল্য ১৪৪.৭৯ টাকা। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে-যার ফলে বীমা প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে, তাতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সামনে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

অজনপ্রিয় হলেও অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যা ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর (গতকাল দিবাগত রাত ১২টা) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মার্চ ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করার কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনই ডিজেল। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছিল। এই সমন্বয়ের পরও বিপিসিকে গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হবে। যদি এই মূল্য সমন্বয় না করা হতো, তবে ডিজেলেই এক বছরে সরকারকে লোকসান বা ভর্তুকি দিতে হতো প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

আর সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে সেই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা, যোগ করেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেই যদি এই বিশাল ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়, তবে সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভীষণভাবে বিঘ্নিত হবে। যে মা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে প্রতিবন্ধী সন্তানকে মানুষ করছেন কিংবা যে বিধবা নারী ভাতার ওপর ভরসা করে সংসার চালাচ্ছেন, তাদের পক্ষে জীবনধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

শেয়ার করুনঃ