রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ১৯১ তম জন্মতিথি উপলক্ষ্যে যশোরে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসব শুরু হয়েছে। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে বুধবার এ উৎসব শুরু হয়।
এদিন মঙ্গলারতি, বৈদিক স্তোত্র পাঠ ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে ভোর পাঁচটা থেকে সূচনা হয় উৎসবের। এরপর সকাল আটটায় শুরু হয় শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি ও বার্ষিক এ উৎসবে শ্রদ্ধায় সমর্পিত হয়ে মানবকল্যাণের জয়যাত্রা সমুন্নত রাখতে উৎসবে শামিল হন অগণিত ভক্ত।
এদিন দুপুরে ‘স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। আশ্রমের মাঠে নির্মিত সু-সজ্জিত অস্থায়ী উৎসব মঞ্চে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা থেকে বৈশ্বিক মানবিকতার কর্মযজ্ঞে নিবেদিত থাকতে এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানবসেবা ও মানবিক উন্নয়নের আহ্বান জানানো হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (এডিসি- সার্বিক) কমলেশ মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আদ্-দ্বীন সখিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজে যশোরের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার সঞ্জয় সাহা, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর হরেকৃষ্ণ দাস। সভাপতিত্ব করেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ। স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ যশোরের সভাপতি তপন রায়। সঞ্চালনা করেন যশোর নওয়াপাড়া মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রাহা।
এতে বক্তারা বলেন, ‘সঠিক ধর্মচর্চা আমাদের মানবিকবোধ জাগ্রত করে। আর এ মানবিকতায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক গুণাবলি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ফলে সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা বৈষম্য দূর হয়। বক্তারা সকলকে মহামনীষীদের জীবনাদর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।’
এর আগে উৎসব মঞ্চে অভয়নগর বসন্ত বাণী সংগীত অ্যাকাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচনার পর রামায়ণ গান পরিবেশন করেন মণিরামপুরের পালাকার উজ্জ্বল হালদার ও তার দল। সন্ধ্যায় শ্রীমদ্ভাগবত আলোচনা করেন স্বামী আত্মবিভানন্দ মহারাজ। শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া দুপুরে বিতরণ হয় অন্ন প্রসাদ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় আশ্রমের মূল মন্দিরে হবে মঙ্গলারতি, বৈদিক স্তোত্র পাঠ ও সমবেত প্রার্থনা, সকাল আটটায় হবে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজা ও ভজন সংগীত, সকাল ১১টায় ‘শ্রীমা সারদাদেবীর জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা, আলোচনার পর হবে রামায়ণ গান, সন্ধ্যায় ভাগবত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
উৎসবের সমাপনী দিন শুক্রবার সকালে বিশেষ পূজা, দুপুরে ভজন সংগীত, ভক্তিগীতি, অন্ন প্রসাদ বিতরণ, বিকেলে হবে ‘শ্রীমা সারদা দেবীর জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা, সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।


























