জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিল বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট আইন সংসদে পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি। এর মধ্য দিয়ে দলটি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের নাম বাদ দেওয়ার দাবি
আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন পক্ষের উল্লেখ ছিল। ২০২৫ সালে এতে সংশোধনী আনা হয়। পরে ২০২৬ সালে আইনটি সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিশেষ কমিটিতে বিষয়টি আলোচনায় এলে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংজ্ঞা থেকে দলটির নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তিনি বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়। আইনটি সংসদে পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি।’
রাজ্জাকের ২০১৬ সালের অবস্থান
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে রাজ্জাকের ওই অবস্থান জামায়াত গ্রহণ করলে দলটিকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৬ সালে রাজ্জাক জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে একটি বিবৃতির খসড়া তৈরি করেছিলেন। সেখানে দলটির নেতৃত্বকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাঁর মতে, রাজ্জাকের ওই অবস্থান ছিল দূরদর্শী।’
জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বর্তমান নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, জামায়াতের প্রধান আইনজীবী ও নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বইটির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন—এটা যেমন সত্যি না, আবার তাঁর সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না—এটাও সঠিক না।’


























