বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬

১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালাচ্ছিলেন ভাই

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ১১:১৬, ৩ মার্চ ২০২৬

বোনকে কুপিয়ে হত্যার পর বোরকা পরে পালাচ্ছিলেন ভাই

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানা এলাকায় বড় বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে হালিশহর থানাধীন ঈদগাহ বড়পুকুর পাড়সংলগ্ন বাঁশতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছেনোয়ারা বেগম (৪৮) ওই এলাকার বাসিন্দা ও সাবের আহমদের স্ত্রী। ঘটনার পর পালানোর সময় তার ভাই মো. জানে আলমকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবের আহম্মেদের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষে জানে আলম ধারাল অস্ত্র দিয়ে বোন ছেনোয়ারা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ছেনোয়ারা ওই ভবনের মালিক ছিলেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। সবাই বিবাহিত। তিনি ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন। জানে আলম পাহাড়তলী বাজারে একটি পানের দোকান পরিচালনা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। জানে আলম প্রায়ই সন্ধ্যায় বোনের বাসায় যেতেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যবসা ভালো চলছিল না। বোনের কাছ থেকে টাকা নিতেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার দিন একটি ব্যাগে করে তিনি একটি বোরকা, রড ও কাঁচি নিয়ে আসেন। তারাবির সময় ছেনোয়ারার ছেলে মসজিদে ছিলেন এবং পুত্রবধূ বাসায় ছিলেন না। এ সুযোগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে ধারণা পুলিশের।

হত্যার পর লকার ভেঙে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন জানে আলম। পরিচয় গোপন করতে তিনি বোরকা পরেন। পথে এক নারী তার পায়ে পুরুষের জুতো দেখে সন্দেহ করেন এবং স্থানীয় কয়েকজন যুবককে জানান। পরে তারা ধাওয়া করে জানে আলমকে আটক করেন। খবর পেয়ে হালিশহর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ আরও জানায়, ছেনোয়ারা ও জানে আলমের বাবা একই হলেও তাদের মা আলাদা। ছেনোয়ারার মায়ের মৃত্যুর পর জানে আলমের মাকে বিয়ে করেন তাদের বাবা। দুই মা ছিলেন আপন বোন।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি বটি ও একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ওসি সুলতান আহসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: