বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ঘাস বীজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে কৌশলে ভারত থেকে আনা হয়েছিলো আমদানি নিষিদ্ধ পাট বীজের বড় একটি চালান। যা ছাড় করানোর প্রক্রিয়ায় চলছিলো জোরেশোরে। তবে বিষয়টি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সদস্যদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (০৯ মার্চ) বিকেলে বন্দরের ১৫নং শেডে গিয়ে কাস্টমস ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা পণ্য চালানটি পরীক্ষা করলে ঘোষণা বহির্ভূত ৫৬৭ বস্তায় ১৭ মেট্রিক টন ১০০ কেজি পাট বীজ শনাক্ত করে তা জব্দ করে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ মিথ্যা ঘোষণায় পাটবীজ নিয়ে আসে, যা ক্লিয়ারিংয়ের দায়িত্বে ছিলো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স কদর অ্যান্ড কোং নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
আরও জানা গেছে, ঘাসের বীজ ঘোষণা দিয়ে ১ হাজার ৫০০ বস্তায় ৪৫ মেট্রিক টন ৬শ' কেজির পণ্যের চালানটি ভারতীয় একটি ট্রাকযোগে রোববার রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। তবে এনএসআই'র গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি জব্দ করে কাস্টমস।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা ঘোষণার অপরাধে আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের বীজ দেশে প্রবেশ করায় কৃষষক প্রতারিত হওয়ায় গোটা কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়াও সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। তারপরও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে এমন অবৈধ কার্যক্রম। মাঝে-মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দুই-একটি চালান জব্দ হলেও বেশিরভাগ ছাড় হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বাজারে।


























