ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের তেলে দাম বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তেলের দাম বাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়ে নিয়ে আলাপকালে তিনি জানান, আপাতত জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই। যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে তা শিগগিরই কেটে যাবে। সরকার ইতোমধ্যে এপ্রিল-মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তেলের বিকল্প হিসেবে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে তেল রপ্তানি বাড়াতে ভারত সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে। কিছু অঞ্চলে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
এদিকে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এ ডিজেল পৌঁছাবে।
মোরশেদ হোসাইন বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে পাম্পিং শুরু হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল আসতে প্রায় ৪৪ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসেবে বুধবার সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ সম্পন্ন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ টন করে তেল পাম্পিং হয়।
অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মহানগর এলাকায় রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিপিসি থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জনগণের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশকিছু জ্বালানি তেল দেশে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিলারদের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহানগর এলাকায় রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—
১. ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময় রাইড শেয়ারিং ভাউচার বা অ্যাপের তথ্য দেখাতে হবে এবং সেখানে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকতে হবে।
২. প্রতিবার জ্বালানি নেওয়ার সময় আগের ক্রয়ের রসিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে।
৩. মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্য রাইড শেয়ারিং অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান রয়েছে এবং সংকটের সময় অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ নেই। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি মাসের শুরুতে সরকার নির্ধারণ করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বিপিসি।
এর আগে গত শুক্রবার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা ঠিক করে দেয় বিপিসি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া হচ্ছিল।
এ ছাড়া ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়ার সীমা ঠিক করা হয়।


























